নিজস্ব প্রতিনিধি :: সংবাদ প্রবাহ :: কৃষ্ণনগর :: শনিবার ১৭,জানুয়ারি :: আরজি করে নির্যাতিত ও নিহত চিকিৎসক অভয়ার স্মৃতিতে নদিয়ায় হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলেন তাঁর বাবা-মা।
সেই উদ্যোগে বড় পদক্ষেপ—কৃষ্ণনগরের ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে জমি ও অর্ধনির্মিত বাড়ি বিনামূল্যে দান করার সিদ্ধান্ত নিলেন কৃষ্ণনগরের প্রবীণ নির্দল পুরপ্রতিনিধি অসিত সাহা।
নদিয়া সদর শহরের সন্নিকটে মায়াকোল এলাকায় অবস্থিত সাত শতক জমি ও একটি অর্ধনির্মিত তিনতলা বাড়ি হাসপাতাল তৈরির জন্য দেওয়া হবে বলে জানান অসিত সাহা।
তিনি বলেন, “অভয়ার নামে যদি হাসপাতাল হয়, এমন সমাজসেবামূলক কাজে আমি নিঃশর্তে এই জমি ও বাড়ি দান করতে চাই।”
জমি দেখতে গিয়ে নিহত চিকিৎসকের মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে মানুষের সেবাকেই ধর্ম মনে করত। সেই মানবসেবার স্বপ্ন পূরণ করতেই অভয়ার নামে হাসপাতাল গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা তাকে সেই সুযোগ দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।”
চিকিৎসকের বাবা জানান, দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছেন। “আজ পর্যন্ত কারও কাছ থেকে অর্থ সাহায্য নিইনি। এবার মানুষের সেবার জন্যই নদিয়ার পবিত্র ভূমিতে অভয়ার নামে হাসপাতাল গড়ে তুলব,” বলেন তিনি।
হাসপাতালের জন্য জমি খোঁজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দা, কৃষি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও সমাজকর্মী স্বপন ভৌমিক। তিনি জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি-সহ একাধিক জায়গায় জমি দেখা হলেও নানা কারণে সেগুলি চূড়ান্ত হয়নি। পরে অসিত সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
হাসপাতাল নির্মাণ ও ভবিষ্যৎ পরিচালনার জন্য সাত সদস্যের একটি ‘ট্রাস্টি বোর্ড’ গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বোর্ডে থাকবেন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা, তাঁদের এক নিকটাত্মীয়, স্বপন ভৌমিক, অসিত সাহা এবং তাঁর পরিবারের দু’জন সদস্য।
কলকাতায় ফেরার আগে অভয়ার বাবা-মা কৃষ্ণনগর আইএমএ ভবনে চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতার আবেদন জানান। আইএমএ কৃষ্ণনগর শাখার সহ-সভাপতি অনির্বাণ জানা বলেন,
“আরজি কর আন্দোলনের শুরু থেকেই আমরা পাশে আছি।
‘অভয়া ক্লিনিক’ নামে সাপ্তাহিক বিনামূল্যের চিকিৎসা পরিষেবাও চলছে। হাসপাতাল হলে বহু চিকিৎসকই স্বেচ্ছায় সাহায্যের হাত বাড়াবেন।”

