আচমকাই রাস্তার মাঝ বরাবর ফাটল ধরে । আর সেই ফাটল চিরে ফুঁসে উঠতে শুরু করল জল – প্রথমে পাতলা ধারা তারপর ক্রমশ যেন বাঁধভাঙা স্রোত

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: শুক্রবার ৯,জানুয়ারি :: বর্ধমান–আরামবাগ রাজ্য সড়ক। প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের চেনা পথ। কিন্তু পূর্ব বর্ধমান জেলার, মাধবডিহি থানার উচালন এলাকায় সেই চেনা ছবিই এক মুহূর্তে বদলে গেল অচেনা আতঙ্ক আর কৌতূহলে।

আচমকাই রাস্তার মাঝ বরাবর ফাটল ধরে । আর সেই ফাটল চিরে ফুঁসে উঠতে শুরু করল জল। প্রথমে পাতলা ধারা তারপর ক্রমশ যেন বাঁধভাঙা স্রোত—রাস্তার বুক চিরে হু হু করে উপচে পড়তে লাগল জল। হঠাৎ এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য । কেউ থমকে দাঁড়ান ।কেউ আবার দূর থেকে মোবাইলে ভিডিও তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই ভিড় জমে যায় ঘটনাস্থলে। নানা জল্পনা শুরু হয়—কেউ বলেন ভূগর্ভস্থ কোনও জলধারা ফেটে গেছে ।

কেউ আবার কল্পনা করেন বড়সড় কোনও দুর্ঘটনার আশঙ্কা। প্রায় এক কাঠা জায়গা জুড়ে রাস্তার বুক ভিজিয়ে জল যেন নিজের অজানা গল্প বলতে থাকে।

প্রথম দিকে কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেননি এই জল ঠিক কোথা থেকে আসছে। রাস্তার নিচে কি কোনও পুরনো পাইপ? নাকি মাটির তলার কোনও গোপন ক্ষত? ধোঁয়াশার মধ্যেই পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে।

যান চলাচল কার্যত থমকে যায়, চালকেরা সতর্ক হয়ে দূর থেকে পরিস্থিতি বুঝে এগোতে থাকেন।অবশেষে সন্দেহের সূচনা স্থানীয়দের মধ্যেই। বিষয়টি নিয়ে তারা যোগাযোগ করেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সঙ্গে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলল রহস্যের সূত্র। পিএইচই দফতর থেকে জল সরবরাহ বন্ধ করা মাত্রই ধীরে ধীরে থেমে যায় রাস্তার বুক চিরে ওঠা সেই জলধারা। মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভূগর্ভস্থ জল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেই যুক্ত এই অস্বাভাবিক ঘটনা।

পিএইচই দফতর সূত্রে জানানো হয়, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথায় কীভাবে পাইপলাইনে ত্রুটি দেখা দিল ও রাস্তার নিচে কোনও ক্ষয় বা ফাটল আগে থেকেই ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়।

তবে আপাতত জল থামলেও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। স্থানীয়দের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ফের এমন ঘটনা ঘটলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবিও উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × five =