আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: রবিবার ১,ফেব্রুয়ারি :: লোকসভা নির্বাচনের আবহে পেশ হল কেন্দ্রীয় বাজেট। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পোন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ—এই চার স্তম্ভকে সামনে রেখে বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এই বাজেটে বাংলার প্রাপ্তি কতটা ?
অবকাঠামো ও রেল: প্রত্যাশা বনাম প্রাপ্তি – বাজেটে জাতীয় সড়ক, রেল ও বন্দরের উন্নয়নে জোর দেওয়া হলেও নির্দিষ্টভাবে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন কোনো বড় প্রকল্পের ঘোষণা চোখে পড়েনি।
ফাইল চিত্র
রেলক্ষেত্রে আধুনিকীকরণ ও নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও নতুন রেললাইন বা বড় স্টেশন পুনর্গঠনের বিষয়ে বাংলার নাম আলাদা করে উল্লেখ নেই। ফলে রাজ্যের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদী মহলে কিছুটা হতাশা।
শিল্প ও বিনিয়োগ: সাধারণ নীতি, নির্দিষ্ট দিশা নেই – শিল্পক্ষেত্রে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’, স্টার্টআপ ও MSME-র জন্য করছাড় ও ঋণ সহায়তার কথা বলা হয়েছে। তবে বাংলায় শিল্প বিনিয়োগ টানার জন্য আলাদা কোনো বিশেষ প্যাকেজ বা প্রকল্প ঘোষিত হয়নি। জাতীয় স্তরে সুযোগ তৈরি হলেও তার বাস্তব সুফল রাজ্যে কতটা আসবে, তা নির্ভর করবে রাজ্য-কেন্দ্র সমন্বয়ের ওপর।
কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। যেহেতু বাংলায় কৃষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, তাই এই খাতের বরাদ্দ থেকে রাজ্য পরোক্ষভাবে লাভবান হতে পারে। একইভাবে আবাসন, স্বাস্থ্য ও খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপকারের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্য সরকারের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাংলার প্রাপ্য বকেয়া এখনও মেটানো হয়নি। এবারের বাজেটে সেই বকেয়া প্রসঙ্গে কোনো স্পষ্ট দিশানির্দেশ না থাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সার্বিকভাবে বলা যায়, এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা করে ‘শিকে ছিঁড়েছে’—এমন জোরালো ইঙ্গিত নেই। জাতীয় স্তরের নীতির সুফল রাজ্যে পৌঁছনোর সুযোগ থাকলেও নির্দিষ্ট ঘোষণা ও প্রকল্পের অভাবে বাজেট নিয়ে রাজ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, এই বাজেট বাস্তবায়নের পথে বাংলার প্রাপ্তি কতটা বাস্তব রূপ নেয়।

