নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: এগরা :: বুধবার ৮,এপ্রিল :: ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণ থেকে শুরু করে নিকাশি ব্যবস্থা, পথবাতি ও সাব-মার্সিবল পাম্প বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হলেও, প্রাপ্য টাকা না পাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন ঠিকাদারেরা।
অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকার বিল আটকে থাকায় ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা। জানা গেছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা-২ ব্লকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ফেব্রুয়ারি ও মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করা হয়।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঠিকাদারেরা মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই ব্লক অফিসে বিল জমা দেন। তবে অভিযোগ, তৎকালীন বিডিও সংকলিতা চন্দ্র সেই বিলগুলি ‘পাস’ করেননি।
ঠিকাদারদের দাবি, মার্চের শেষ সপ্তাহে যাঁরা বিল জমা দিয়েছেন, তাঁদের বিল মঞ্জুর হয়ে গেলেও আগের বিলগুলি এখনও আটকে রয়েছে। এতে ব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ ঠিকাদারেরা।
এদিকে, নির্বাচন ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ওই বিডিওর বদলি হয়েছে। নতুন বিডিওর কাছে প্রায় ১৫ জন বঞ্চিত ঠিকাদার এই সপ্তাহে তাঁদের বকেয়া মেটানোর আবেদন জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে সাতজন ঠিকাদার এগরা মহকুমাশাসক ও জেলাশাসকের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
ঠিকাদার খোকন দাসের কথায়, “মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিল জমা দেওয়ার পরেও তা পাশ করা হয়নি। অথচ পরে জমা দেওয়া বিলের টাকা দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের চক্রান্তের শিকার হয়েছি। ঋণের চাপে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছি।”
এই পরিস্থিতিতে ঋণ নিয়ে কাজ করা ঠিকাদারদের ওপর মহাজনদের চাপ বাড়ছে। এমনকি ব্যাঙ্ক থেকেও ঋণ খেলাপির নোটিস আসছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে এগরা মহকুমাশাসক কর্মবীর কেশব ফোনে জানিয়েছেন, “বিডিওকে দ্রুত ঠিকাদারদের বিল মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন বিল আটকে আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এখন দেখার, প্রশাসনের আশ্বাসের পর কবে মিলবে ঠিকাদারদের প্রাপ্য টাকা! সেই আশায় প্রহর গুনছেন স্থানীয় ঠিকাদারেরা।

