কখনও রান্নাঘরে ঢুকে গৃহিণীদের সঙ্গে রান্না, কখনও বা সেলুনে বসে সাধারণ মানুষের মতো দাড়ি কাটা—এসব দৃশ্য এখন আর নতুন নয়। তবে সেই তালিকায় এবার এক অন্য মাত্রা যোগ করলেন সোনারপুর উত্তরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ফিরদৌসী বেগম, যিনি চায়ের দোকানে ঢুকে নিজেই চা বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন সকলকে।
শনিবার বিকেলে প্রচারে বেরিয়ে বোরাল রক্ষিতের মোড় এলাকায় পৌঁছন তিনি। স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে আচমকাই ঢুকে পড়েন প্রার্থী। প্রথমে তাঁর এই উপস্থিতিতে কিছুটা অবাক হয়ে যান দোকানদার ও স্থানীয়রা।
কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সেই অবাকভাব বদলে যায় উচ্ছ্বাসে। প্রার্থীকে এত কাছ থেকে, এত স্বাভাবিক ভাবে দেখে অনেকেই এগিয়ে আসেন তাঁর সঙ্গে কথা বলতে।
এরপরই শুরু হয় মূল চমক। ফিরদৌসী বেগম নিজেই দোকানের দায়িত্ব নিয়ে চা বানাতে শুরু করেন। কেটলি হাতে নিয়ে জল ফোটানো থেকে শুরু করে চা-পাতা, দুধ, চিনি মিশিয়ে একেবারে পাকা হাতে চা তৈরি করেন তিনি।
তাঁর এই সহজ-সরল উপস্থিতি এবং নির্ভার আচরণে মুগ্ধ হয়ে পড়েন উপস্থিত সকলে। শুধু চা তৈরি করেই থেমে থাকেননি তিনি। নিজ হাতে সেই চা পরিবেশন করেন কর্মী-সমর্থক, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবীণ মানুষদের মধ্যে।
এলাকার একাধিক কাউন্সিলরও সেই চা পান করেন। কয়েকশো কর্মী-সমর্থকের ভিড়ে চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এক উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই মোবাইলে সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন। কেউ কেউ আবার প্রার্থীর সঙ্গে সেলফি তুলতেও ভিড় জমান।
সব মিলিয়ে, সোনারপুরে ফিরদৌসী বেগমের এই চা-পর্ব শুধু একটি প্রচার কর্মসূচি নয়, বরং এক নতুন বার্তা—রাজনীতির মঞ্চ থেকে নেমে এসে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। আর সেই বার্তাই হয়তো ভোটের দিনে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

