নিজস্ব প্রতিনিধি :: সংবাদ প্রবাহ :: পান্ডবেশ্বর :: সোমবার ২৬,জানুয়ারি :: পান্ডবেশ্বরের গোবিন্দপুর গ্রামে বিজেপির জনসংযোগ ও গীতা বিতরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি।
অন্যদিকে, পাল্টা অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে মহিলাদের হেনস্তার দাবি করেছেন স্থানীয় তৃণমূল সমর্থকরা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র তিওয়ারি জানান, বিজেপির পক্ষ থেকে আইন মেনেই এবং পুলিশকে আগাম জানিয়ে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
কিন্তু অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে ওই কর্মসূচিতে বাধা দেয়। তাঁর দাবি, তৃণমূল নেতা নরেনের মদতেই কিছু লোকজন জোর করে বিজেপি কর্মীদের পথ আটকায়। জিতেন্দ্র তিওয়ারির বক্তব্য, “গীতার নাম শুনলেই ওনারা বেগুন পোড়ার মতো জ্বলে ওঠেন।
বিরোধীদের প্রচার করতে না দেওয়া, মানুষের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেওয়াই আসলে গণতন্ত্রের হত্যা। ” তিনি আরও বলেন, যদি তৃণমূলের সত্যিই মানুষের ওপর ভরসা থাকত, তাহলে এভাবে গায়ের জোর দেখানোর কোনও প্রয়োজন পড়ত না।
বক্তব্যের শেষে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে বিজেপি নেতা বলেন,“আমি চাই সবাই মিলেমিশে থাকুক—সে আমার দলের হোক বা তৃণমূলের। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়া বা আমাদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আমি বারবার এই এলাকায় আসব।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক রূপালী পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, “আমাদের সরস্বতী পুজো খুব জাগ্রতভাবে পালিত হয়। এখানে ৫০–৬০ জন মহিলা একসঙ্গে বসে প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে আলোচনা করছিলাম। সেই সময় হঠাৎ তিওয়ারি তাঁর গুণ্ডাদের নিয়ে আসে।
উনি আসতেই পারেন, আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু এসে আমাদের মহিলাদের উপর টর্চার, টিটকারি এমনকি শ্লীলতাহানির মতো আচরণ শুরু হয়।
” রূপালীর আরও দাবি, “এই অবস্থায় আমরা চাই ওনাদের চরম শাস্তি হোক। আমরা থানায় গিয়ে প্রতিবাদ জানাবো, ডায়েরিও করব। আমাদের মেয়েদের কোনও সুরক্ষা নেই।
সরস্বতী পুজোর মতো পবিত্র অনুষ্ঠানে এসে উনি পুরো পরিবেশটাই নোংরা করে দিয়ে চলে গেলেন। এটা কি কোনও দায়িত্বশীল নেতার কাজ হতে পারে? এরই আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

