নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: চন্দ্রকোনা :: রবিবার ৩,মার্চ :: সংসার বাঁচাতে প্রাণ বাঁচাতে লাঠি হাতে গ্রামের মহিলারা! প্রশাসন থেকে স্থানীয় নেতাদের একাধিকবার জানিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি তাই গ্রামের এক যুবকের মৃত্যুর পরেই টনক নড়ল গ্রামের মহিলাদের।
গ্রাম থেকে সম্পূর্ণভাবে মদ উচ্ছেদ করলো গ্রামের গৃহবধূরা। গ্রামে মদ বিক্রি করলে পড়বে লাঠির ঘা প্রকাশ্যে মদ খেয়ে মাতলামি করলেও খেতে হবে মহিলাদের হাতে মার। এক কথায় গ্রামের প্রমিলা বাহিনীর ভয়ে মদের কারবার ও মদ খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে গ্রামে।
গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা বলছেন, গ্রামের চায়ের দোকান,মুদির দোকান সবেতেই চলত রমরমিয়ে মদের কারবার। রাতে ভয়ে বাড়ি থেকে বেরোনো যেত না, শুধু মদের গন্ধ- আর মাতালের দৌরাত্ম্যে। তবে এখন গ্রামের প্রমীলা বাহিনির জন্য গ্রামে শান্তি ফিরেছে।
এমনই ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের চাঁদুর গ্রামে। জানায়ায় চাঁদুর গ্রামে প্রায় ৭০০ মত পরিবার বসবাস। কিন্তু এই গ্রামে বেশ কয়েক বছর ধরে রমরমিয়ে চলছিল মদের কারবার।
বেশিরভাগ বাড়িতেই মদ খেওয়া নিয়ে অশান্তি লেগেই থাকতো, মদ খেয়ে মারা গিয়েছে বেশ কয়েক জন, এই নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে গ্রামের মানুষজন জানালেও গ্রাম থেকে মদ তুলতে ব্যর্থ হয় প্রশাসন।
কিন্তু হঠাৎ করেই ঘুরে গেল মোড়, কারণ- কিছুদিন আগে গ্রামের পুকুর থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার তারপরেই এলাকার মানুষ অভিযোগ তুলেন মদ খাওয়ার ফলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামের মহিলারা দ্রুততার সহিত একত্রিত হয় তারা।
তারপরে গ্রামে যেখানে যেখানে মদের কারবার চলত সেখান থেকে তারা মদ বার করে নষ্ট করে, শুধু তাই নয় প্রশাসনের উপর আস্থা হারিয়ে গ্রামের মহিলারা আইন তুলে নেন নিজেদের হাতে।
গ্রামের মহিলাদের এই আন্দোলনে সামিল মনোহরপুর ৬/২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধান মাধূরী সিং, তিনিও এই আন্দোলনে সামিল হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, মদ খেয়ে মাতলামি করলেই প্রকাশ্যে লাঠি হাতে মহিলারা একত্রিত হয়ে তাকে গণপ্রহার করছেন।
অবশেষে গ্রামের মহিলাদের ভয়ে গ্রামের মদের কারবার ও মদ খাওয়া বন্ধ করেছে অনেকেই। সম্পূর্ণরূপে গ্রামে মদ বিক্রি বন্ধ হয়েছে। মহিলাদের এই উদ্যোগে খুশি এলাকার প্রবীণ থেকে নবীন সকলে। আর গ্রামের মহিলাদের উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমান বিশ্বাস।