সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: বারুইপুর :: বুধবার ২৮,জানুয়ারি :: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বারুইপুর আদালত। এই ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকায় এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দমকল ও উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গিয়েছে, সর্বশেষ তল্লাশিতে ঘটনাস্থল থেকে আরও চারজনের দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মোট ১৭ জনের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে কলকাতার কাঁটাপুকুর মর্গে।
দেহগুলির অবস্থা এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রেই শনাক্তকরণ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে এই অগ্নিকাণ্ড মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ৭২ বছর বয়সি ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী গঙ্গাধর দাসকে। তার বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার পূর্বচড়া গ্রামে।
দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে ডেকোরেটার্স ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রায় ১৩ বছর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি সোনারপুরের খেয়াদহ ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদ এলাকায় কারখানা ও প্যান্ডেল সামগ্রীর গোডাউন চালু করেন।
সেই গোডাউনেই গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ। অগ্নিকাণ্ডের খবর সামনে আসার পর থেকেই গঙ্গাধর দাস গা-ঢাকা দেন। তার মোবাইল ফোনও দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। এরপর পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুর থানায় তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়।
অবশেষে গড়িয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার শুভেন্দ্র কুমার। তিনি জানান, পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে।
