নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ময়নাগুড়ি :: রবিবার ২২,ফেব্রুয়ারি :: উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব জলপেশ মেলা। শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই মেলায় প্রতি বছর কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হয়।
কিন্তু এবারের মেলায় ‘চিত্রহার’-এর নামে প্রকাশ্যেই চলছে অশ্লীল নৃত্যের আসর—এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন মেলায় আসা পুণ্যার্থীরা।
অভিযোগ উঠেছে, মেলার নির্দিষ্ট কিছু মঞ্চে চড়া মূল্যে টিকিট বিক্রি করে যুব সমাজকে এই কুরুচিকর নৃত্যের দিকে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। অনেক সময় আবার ওই সমস্ত মঞ্চের পর্দা সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সপরিবারে মেলায় আসা মানুষজন অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে পড়ছেন।
ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসা সাধারণ দর্শনার্থীরা লজ্জায় মুখ ঢাকছেন।মেলায় আসা এক প্রবীণ পুণ্যার্থী আক্ষেপের সুরে বলেন, “আগে এই মেলায় পুতুল নাচ বা সার্কাস হতো, যা আমরা পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখতাম।
এখন যা চলছে তা ঘোর অপসংস্কৃতি। এতে যুব সমাজ রসাতলে যাচ্ছে। অবিলম্বে প্রশাসনের এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই ময়নাগুড়ি থানার আইসি (IC) সুবল ঘোষকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে সক্রিয় কোনো পদক্ষেপের খবর মেলেনি।
তবে বিষয়টি নিয়ে ময়নাগুড়ি বিডিও (BDO) প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা পরিষদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
অন্যদিকে, জল্পেশ মেলা কমিটির সদস্য সমীরণ চক্রবর্তী জানান, “বিষয়টি আমাদের কানে এসেছে। আমরা খতিয়ে দেখছি। যদি সত্যিই কোনো অশালীন কর্মকাণ্ড ঘটে থাকে, তবে মেলা কমিটি ও প্রশাসন মিলে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
ঐতিহ্যের মেলায় এমন কুরুচিকর সংস্কৃতির প্রবেশ নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ তুঙ্গে।

