ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার চেয়ে মৃত্যু ভালো – দাবি আরামবাগের তায়বুন্নেসা বেগমের

জাকির আলী :: সংবাদ প্রবাহ :: আরামবাগ :: সোমবার ১৩,এপ্রিল :: দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতা ও নথি সংক্রান্ত বিরোধে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন আরামবাগের এক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা। চরম হতাশার মধ্যে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

আবেদনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম তাইবুন্নেসা বেগম। তিনি গোঘাট ভগবতী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা। দীর্ঘ ৩৪ বছর সরকারি পরিষেবা দিয়েছেন তিনি। তাঁর স্বামী আরামবাগ গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ।

এদিন ক্ষোভ চেপে না রেখে তাইবুন্নেসা বলেন:‘‘জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই হয়রানি আমরা সহ্য করতে পারছি না। সেই কারণে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের আবেদন করেছি।’’ সূত্রের খবর, ওই প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কিছু প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে নথি যাচাই ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলছিল।

অভিযোগ, বারবার বিভিন্ন দপ্তরে নথি জমা দেওয়া, ব্যাখ্যা চাওয়া এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে তিনি চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন। আবেদনকারীদের সঙ্গে এদিন মহকুমা শাসকের দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্বপন নন্দী।

আবেদনকারীদের অভিযোগের মূল সুরটি হল— “ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার চেয়ে মৃত্যু ভালো।” ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় তাঁরা আশঙ্কা করছেন, তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 5 =