তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তেহার – বার্ধক্য ভাতা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা, ঘরে ঘরে পরিষেবা—নতুন প্রতিশ্রুতির জল্পনায় গরম রাজ্য রাজনীতি

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শুক্রবার ২০,মার্চ :: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে চড়ছে উত্তাপ। তারই মধ্যে জোর জল্পনা, আসন্ন তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহারে এ বার বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছেন রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকেরা।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নারী, যুব ও গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কের পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য আলাদা কিছু প্রতিশ্রুতি সামনে এনে ভোটের লড়াইয়ে মানবিক ও সামাজিক সুরকে আরও জোরালো করতে চাইছে শাসকদল।দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার রাজনীতিতে জনমুখী প্রকল্পকে হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, ছাত্রঋণ বা বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের পর এ বার প্রবীণদের জন্য আরও সুসংগঠিত কর্মসূচি আনার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

দলীয় সূত্রে স্পষ্ট কিছু ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বার্ধক্য ভাতা বৃদ্ধি, প্রবীণদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য পরিষেবা, একাকী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য স্থানীয় স্তরে সহায়ক কেন্দ্র এবং সরকারি পরিষেবা ঘরে পৌঁছে দেওয়ার মতো বিষয়গুলি ইস্তেহারে জায়গা পেতে পারে।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে, বয়স্ক ভোটারদের নিয়ে বিশেষ আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, শহর থেকে গ্রাম—উভয় ক্ষেত্রেই প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, আর তাঁদের চাহিদাও বদলাচ্ছে।

কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, প্রয়োজন নিয়মিত চিকিৎসা, সুলভ ওষুধ, হাসপাতালে দ্রুত পরিষেবা, এমনকি সামাজিক নিরাপত্তারও।

ফলে তৃণমূল যদি প্রবীণদের কথা মাথায় রেখে আলাদা নীতি বা প্রকল্প ঘোষণা করে, তবে তা রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবীণ ভোটাররা সাধারণত স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং সরাসরি প্রাপ্ত সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

সেই জায়গা থেকেই তৃণমূল চাইতে পারে “নির্ভরতার রাজনীতি”-কে আরও শক্তিশালী করতে। বিশেষত যাঁরা অবসরপ্রাপ্ত, স্বল্প আয়ের, অথবা পরিবারে নির্ভরশীল অবস্থায় রয়েছেন,

তাঁদের কাছে মাসিক ভাতা, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যপরীক্ষা, ব্লক স্তরে জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক, বা বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা-পরামর্শের মতো প্রস্তাব বড় বার্তা হয়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, এ বার ইস্তেহারে প্রবীণ নারীদের জন্যও আলাদা দিশা দেখা যেতে পারে। কারণ, বিধবা ভাতা, একাকী মহিলাদের সুরক্ষা, চিকিৎসা এবং সামাজিক সহায়তা—এই চারটি বিষয় রাজ্যের সামাজিক বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তৃণমূল যদি প্রবীণ নারীদের লক্ষ্য করে আলাদা প্যাকেজ ঘোষণা করে, তবে তা গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 + 11 =