নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: রায়না :: মঙ্গলবার,০৬ ডিসেম্বর :: শিক্ষা শিশুর মৌলিক অধিকার—এই বার্তাকে সামনে রেখেই সফলভাবে সম্পন্ন হলো “দুয়ারে এডমিশন ক্যাম্প”। পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না ২ নম্বর ব্লকের কাইতি গ্রামের অন্তর্গত জুদগুপী এলাকায় অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বিদ্যালয়ছুট শিশুদের ফের মূল শিক্ষাস্রোতে ফিরিয়ে আনা।
এই উদ্যোগের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, যেসব ছাত্রছাত্রী বয়সের তুলনায় শিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছে (Over-age), তাদের নিয়ম মেনে, সিস্টেমেটিক উপায়ে আবার বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা।

সফলভাবে সম্পন্ন হলো “দুয়ারে এডমিশন ক্যাম্প”
দ্বিতীয়ত, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভ্রান্ত ধারণার কারণে অনেক অভিভাবক প্রাইভেট স্কুলের দিকে ঝুঁকছেন—এই ভুল ধারণা ভেঙে সরকারি বিদ্যালয়কেই সন্তানের শিক্ষার প্রথম ভরসা হিসেবে তুলে ধরা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষাদানে যুক্ত রয়েছেন। ফলে সরকারি স্কুল মানেই কম মানের শিক্ষা—এই ভুল ধারণার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই বলেই দাবি উদ্যোক্তাদের।
শুধু জুদগুপীতেই নয়, সমগ্র কাইতিগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর গ্রামের মেঠোপাড়ায়ও সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা হয়।
রায়না চার নম্বর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক বিপ্লব নন্দীর অনুপ্রেরণায় এবং কাইতি হেমনলিনী জুনিয়র বেসিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্যোগে এই ক্যাম্প আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের বিশ্বাস এই ছোট্ট উদ্যোগ আগামী দিনে বহু শিশুর বিদ্যালয়মুখী হওয়ার পথ খুলে দেবে এবং সমাজে শিক্ষার আলো আরও বিস্তৃত হবে।

