নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: মালদহ :: মঙ্গলবার ১,এপ্রিল :: ধর্মের থেকে মানুষ বড়! ঈদের খুশিকে ত্যাগ করে হিন্দু মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রীকে বুকে আগলে রাখলেন মুসলিম মহিলারা। এমনকি পুরুষরাও আনন্দ বাদ দিয়ে দুঃখে শামিল হলেন নামলেন চাঁদা তুলতে।
পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেখা গেল মালদার মানিকচক ব্লকের ধরমপুর অঞ্চলের বড় বাগানের রামধণটোলা এলাকায়।আর্থিক দিক দিয়ে নিঃস্ব পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার।
মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের মৃতদেহ আনা, শ্রাদ্ধ করার জন্য যে টাকা তা উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ চাঁদা তুলে পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন।
ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে বড়বাগান রামধণ টলা এলাকার বাসিন্দা টিংকু মন্ডল(৩৬) রাজ মিস্ত্রির কাজে দিল্লির হায়দারপুর গিয়েছিলেন মাসখানেক আগে। শনিবার কাজ করার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরতে থাকে টিংকু মন্ডলের।সহ কর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় টিংকু মন্ডলের।
মৃতদেহ বাড়ি আনার জন্য মোটা অংকের গাড়ি ভাড়া প্রয়োজন। পরিযায়ী শ্রমিক টিঙ্কু মন্ডলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা নুন আনতে পান্তা ফুরায়। বড়বাগান এলাকার হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন টিঙ্কু মন্ডলের মৃতদেহ আনতে তৎপর হয়। গ্রামে গ্রামে চাঁদা তুলে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃতদেহ আনে ও সৎকার্যের ব্যবস্থা করে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে স্ত্রী রুম্পা মন্ডল ও চারটি নাবালক সন্তানকে রেখে মারা গেল পরিযায়ী শ্রমিক টিংকু মন্ডল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী কে হারিয়ে যখন কান্নায় ভেঙে পড়ছেন টুম্পা মন্ডল তখন ঈদের খুশিকে ত্যাগ করে রোজিনা মনতাহারা রা বুকের মধ্যে আগলে রাখছেন টুম্পা মন্ডলকে।
মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়ান মালদা জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিশ্বজিৎ মন্ডল। পরিবারকে ব্যক্তিগত আর্থিক সাহায্য দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সাহায্য পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।