নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কাঁকসা :: শনিবার ১৪,ফেব্রুয়ারি :: কাঁকসার গোপালপুরে একটি বহুতল আবাসন থেকে পড়ে ২৪ বছর বয়সী এক নার্সের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃতার নাম মন্দিরা পাল। তিনি বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা এবং কাঁকসার মলানদিঘী এলাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আবাসনের ১০ তলা থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কাঁকসা থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করে । তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়।
মৃতার বাবা সাগর পাল কাঁকসা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানান। “মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না”—বাবার দাবি” | মৃতার বাবা সাগর পাল বলেন, তাঁর মেয়ে কখনও আত্মহত্যা করতে পারে না। তিনি জানান, মন্দিরা সবসময় হাসিখুশি স্বভাবের ছিল।
শেষবার সরস্বতী পুজোর সময় তাঁদের দেখা হয়েছিল, এরপর নিয়মিত ফোনে কথা হত। ঘটনার দিনও মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেন। তবে কাঁকসা থানার পুলিশ ছাড়া কেউ তাঁদের সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ।
তিনি পুলিশের উপর আস্থা রেখে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সহকর্মী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও অভিযোগ |
মৃতার মাসতুতো ভাই নারায়ণ দাস অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে তাঁর বোনের সহকর্মী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও রকম সহযোগিতা করেনি। এমনকি সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা তথ্য আদান-প্রদানও সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল থেকেও কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বা শেষবারের মতো দেখতে আসেনি বলে দাবি তাঁর। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সম্ভবত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহকর্মীদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রেখেছে, যার ফলে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
এছাড়াও যে বহুতল আবাসনে নার্স ও হাসপাতালের কর্মীদের রাখা হতো, সেখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ছিল বলেও অভিযোগ পরিবারের। পুলিশের উপর ভরসা পরিবারের।

