নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: নিউজ ডেস্ক :: রবিবার ১৫,মার্চ :: ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে নির্বাচন কমিশন রবিবার ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।
ঘোষণার পরই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা বেড়ে গিয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণানুসারে, ২৯৪টি আসনবিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ভোটগ্রহণ হবে দুই দফায়। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল ২০২৬ এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল ২০২৬। সব আসনের ভোটগণনা অনুষ্ঠিত হবে ৪ মে ২০২৬।
একনজরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের নির্ঘন্ট:
| পর্যায় | ভোটের তারিখ | মোট আসন | জেলাসমূহ |
| প্রথম দফা | ২৩ এপ্রিল | ১৫২ | কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পূর্ব মেদিনীপুর। |
| দ্বিতীয় দফা | ২৯ এপ্রিল | ১৪২ | নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান। |
মনোনয়ন সংক্রান্ত তথ্য:
-
প্রথম দফা: নোটিফিকেশন ৩০ মার্চ। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল। স্ক্রুটিনি ৭ এপ্রিল এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ এপ্রিল।
-
দ্বিতীয় দফা: নোটিফিকেশন ২ এপ্রিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল। স্ক্রুটিনি ১০ এপ্রিল এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ এপ্রিল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মোট প্রায় ৭ কোটির বেশি ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রশাসন ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা শুরু করেছে।
এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলি— তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও সিপিএম ইতিমধ্যেই তাদের কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং কঠোর নজরদারির কথাও কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে।
ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গে কার্যত শুরু হয়ে গেল গণতন্ত্রের বৃহৎ উৎসব। আগামী কয়েক সপ্তাহ জুড়ে প্রচার, রাজনৈতিক সভা, জনসংযোগ এবং জোট রাজনীতির নানা সমীকরণ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

