নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা ডেস্ক :: মঙ্গলবার ৩১,মার্চ :: পাকিস্তান জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়াল ভয়াবহ গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস লাইনে আচমকা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা।
ঘটনায় অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার দক্ষিণ পাকিস্তানের কোয়েটা শহরের উপকণ্ঠে একটি প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাইপলাইনের একটি বড় অংশ উড়ে যাওয়ায় অন্তত পাঁচটি জেলায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সুই সাদার্ন গ্যাস কোম্পানির মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোয়েটার বাইরে একটি বড় এলাকা জুড়ে পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে পাঞ্জগুর, সিবি, মাস্তুঙ, নোশকি, খারান এবং ডেরা বুগতি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। সুই অঞ্চলের মহম্মদ কলোনি ও নাসিরাবাদেও পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে।
এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীতে পাকিস্তানের তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে এই নাশকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসলামাবাদ সরাসরি কোনো নাম না নিলেও, প্রাথমিক সন্দেহের আঙুল উঠেছে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের দিকে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গভীর রাতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাইপলাইনের একাধিক অংশে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের গ্রামাঞ্চলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
পাকিস্তানের জ্বালানি সংস্থার কর্তারা জানিয়েছেন, এই পাইপলাইনটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ, যা শিল্প ও গৃহস্থালি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। বিস্ফোরণের জেরে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের একাংশের মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কার্যকলাপ এই ঘটনার পেছনে থাকতে পারে। বিশেষত বেলুচিস্তান অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বিদ্রোহী সংগঠন সক্রিয়, যারা প্রায়শই অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেছে এবং গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

