পাথরপ্রতিমায় বাজি বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল আট

সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: পাথরপ্রতিমা :: মঙ্গলবার ১,এপ্রিল :: সোমবার রাতে ভয়াবহ বাজি বিস্ফোরণের তীব্রতায় উড়ে গিয়েছিল বাড়ির চাল। ঢোলাহাটে মজুত বাজিতে ঘটল ভয়াবহ বিস্ফোরণ। প্রাণ গেল সাতজনের। আগুনে ছারখার হয়ে গেল গোটা বাড়ি। মৃত্যু হল ৪ শিশু-সহ একই পরিবারের ৭ জনের।

খোঁজ মিলছে না আরও ৪ সদস্যের। ঝলসে গেল ৬ মাসের ২ শিশু থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা ! রেহাই পেলেন না কেউ। বিস্ফোরণ স্থলে গেলে গা শিউরে ওঠার মতো ছবি চারিদিকে ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে বিপত্তি নয়, বরং প্রায় এক দশক ধরে বাড়ির মধ্যে বেআইনিভাবে মজুত রাখা বাজি থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়ির মধ্যেই ছিল বাজির কারখানা, দাবি স্থানীয়দের একাংশের।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে শব্দবাজি তৈরির জন্য কোনও অনুমতি এখন দেওয়া হয়না। দেওয়া হয় শুধুমাত্র গ্রিন আতসবাজি তৈরির অনুমতি। এখানে কি তবে বেআইনি ভাবে বাজি মজুত করা হত?

প্রশ্ন উঠছে  বোমা তৈরি হত বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ। এদিকে লাইসেন্স থাকার পাল্টা দাবি করেছেন পাথরপ্রতিমার তৃণমূল বিধায়ক।

রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকা ওই বাড়িতে বণিক পরিবারের ১১ জন সদস্য থাকতেন। তাদের বাজি তৈরির পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। চন্দ্রকান্ত বণিক এবং তুষার বণিক দুই ভাই।

এই দুর্ঘটনায় তাদের বাবা অরবিন্দ বণিক (৬৫), ঠাকুরমা প্রভাবতী বণিক (৮০) , চন্দ্রকান্তের স্ত্রী সান্ত্বনা বণিক (২৮), দুই সন্তান অর্ণব বণিক (৯) ও অস্মিতা বণিক (৮ মাস) এবং তুষারের দুই সন্তান অনুষ্কা বণিক (৬) এবং অঙ্কিত বণিক (৬ মাস) মারা গিয়েছে।

তুষারের স্ত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল । তিন জন বাড়ির বাইরে ছিল । তাদের কিছু হয়নি।

এ বিষয়ে সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও নালাভাট জানান, সোমবার রাতে ঢোলাহাট থানার অন্তর্গত পাথরপ্রতিমা এলাকায় বাজি বিস্ফোরণের জেরে সাতজনের মৃত্যু হয় । সম্পূর্ণ বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। কিভাবে ঘটনা ঘটেছে তা আমরা তদন্ত শুরু করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + 1 =