নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান ::বৃহস্পতিবার ৫ফেব্রুয়ারি :: পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের আঝাপুর স্কুলের প্রধানশিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অন্য কয়েকজন শিক্ষক মিলিত ভাবে মারধর করলেন অফিসার ইনচার্জকে এমনই অভিযোগ ।
ইংরেজি পরীক্ষার একেবারে শেষ দিকে ওই স্কুলের এক শিক্ষাকর্মী গ্রুপ ডি কর্মী সঞ্জীব দাসের মুঠোফোন বেজে ওঠে পরীক্ষাকেন্দ্রেই। সে সময় সেখানেই নিজের দায়িত্বে ছিলেন স্কুল পরিদর্শক প্রশান্ত কবিরাজ।
মুঠোফোন বেজে ওঠায় প্রশান্ত সঞ্জীবের কাছে মুঠোফোন চান জমা দিয়ে দেবেন বলে। কিন্তু, সঞ্জীব মুঠোফোন জমা দিতে না চাওয়ায় শুরু হয় বচসা। পরীক্ষা শেষের পর সেই বচসা গড়ায় প্রধান শিক্ষকের ঘর পর্যন্ত।ওই ঘরে সে সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক এবং ভেনু সুপারভাইজ়র অসীম কুমার বিশ্বাস, সংস্কৃত-র শিক্ষক প্রদীপ পন্ডিত, জীববিদ্যার শিক্ষক সঞ্জীত টুডু, শারীরবিদ্যা বিষয়ের শিক্ষক সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়, কর্মশিক্ষা-র শিক্ষক অরিন্দম বালা, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অতনু মুখোপাধ্যায় এবং গণিত বিষয়ের শিক্ষক আশিস দত্ত।
অভিযোগ, সেই সময় প্রশান্তকে ঘরে উপস্থিত থাকা প্রত্যেকেই বেধড়ক মারধর করা হয়।
জানা গিয়েছে, ভেন্যু সুপারভাইজ়র বা প্রধান শিক্ষকের ঘর সাধারণত সুরক্ষিত থাকে। লাগানো থাকে সিসিটিভি। কিন্তু সেই সিসিটিভি ক্যামেরাতেও ধরা পড়েনি ঘটনার ফুটেজ। প্রথম ১১ মিনিটের পর মুছে দেওয়া হয়েছে ফুটেজ বলে অভিযোগ।
জানা যায় এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রধান শিক্ষক সহ মোট ৭ জন,শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
গ্রামবাসী তথা প্রাক্তন ছাত্ররা লজ্জার সঙ্গে জানাচ্ছেন আঝাপুর স্কুল দেশ স্বাধীনের আগের শতবর্ষের অধিক প্রাচীন একটি স্কুল।
যেখানে স্বয়ং বিদ্যাসাগর মহাশয় এর পদধূলি পড়েছিল এহেন ঐতিহ্যবাহী স্কুলকে শিক্ষকরা একেবারে দেশবাসীর কাছে নিন্দনীয় করে তুলেছেন এটা আমাদের কাছে সত্যিই লজ্জাজনক। আমারা চাই বিষয়টি নিয়ে সঠিক তদন্ত হোক এবং সত্যিটা সমানে আসুক দোষিদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হোক।

