বিজেপি এ রাজ্যে এলে তৃনমূল সরকারকে সবক শেখাবে কিন্তু সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে টাটা নিয়ে কথা না বলায় আশাহত বঙ্গ বিজেপি.

কলকাতা ডেস্ক নিউজ :: সংবাদ প্রবাহ :: সিঙ্গুর :: রবিবার ১৮,জানুয়ারি :: তৃণমূল সরকারকে ‘নির্মম’ বলে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী দাবী করেন, উন্নয়নের পথে যারা বাধা দিচ্ছে, বাংলার মানুষ তাদের যোগ্য সাজা দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছে।

একইসঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।

কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও রাজনৈতিক স্বার্থ: প্রধানমন্ত্রী এদিন দিল্লির প্রাক্তন সরকারের উদাহরণ টেনে বলেন, “দিল্লিতেও আগে এমন এক সরকার ছিল যারা গরিবদের জন্য আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর করতে দেয়নি।স্রেফ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের জন্য তারা উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত। দিল্লিবাসী তাদের সরিয়ে দিয়েছে। বাংলার মানুষও এবার স্থির করে ফেলেছেন, তাঁরা এই নির্মম তৃণমূল সরকারকে সবক শেখাবেন এবং বিজেপি সরকার গঠন করবেন।”

ভোটমুখী রাজ্যে জমি আন্দোলনের আঁতুড় ঘর সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে মোদি শিল্পায়ন নিয়ে কী বার্তা দেন, তা নিয়ে জনমানসে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সিঙ্গুরের সেই হাজার একর জমির মধ্যে চাষযোগ্য নয়, এমন অংশে শিল্পস্থাপনের দাবি তুলেছে ‘সিঙ্গুর বন্ধ্যা জমি পুনর্ব্যবহার কমিটি’ও।

শুভেন্দু, সুকান্তের মতো বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সুরে সুর মিলিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও চাইছিলেন যাতে সিঙ্গুর নিয়ে কোনও সদর্থক বার্তা দেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে সে কথাও বলেছিলেন বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়।

বলেছিলেন, “আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুর নিয়ে কোনও ইতিবাচক বক্তব্য শোনাবেন।” কিন্তু মোদির ভাষণে টাটার নামোচ্চারণ শোনা গেল না! মোদি শিল্পায়ন নিয়ে কথা তো বললেন, কিন্তু টাটাকে আবার সিঙ্গুরে ডেকে এনে শিল্পস্থাপনের আশ্বাস দিতে দেখা গেল না তাঁকে।

মোদির বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ রাজ্যেও শিল্প আসবে। সাধারণ মানুষ চাকরি পাবেন। কিন্তু তার আগে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা জরুরি। পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তা শিল্পায়ন সম্ভব নয় বলেও বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর কথায়, “এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হলে তবেই বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু এখানে মাফিয়াদের ছাড় দিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে সব কিছুতে সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসিয়ে রাখা হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স এবং মাফিয়াবাদকে বিজেপিই শেষ করবে। এটাই মোদীর গ্যারান্টি।”

অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন: তৃণমূলের বিরুদ্ধে সবথেকে গুরুতর অভিযোগ এনে মোদি বলেন, “তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি তৈরি করে দিচ্ছে। তাদের বাঁচানোর জন্য এরা ধরনায় পর্যন্ত বসতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূলের রাজত্বে দাঙ্গাকারীরা অবাধে ঘুরে বেড়ায় এবং দলের নিচুতলার নেতারাও নিজেদের ‘বাংলার হুজুর’ বলে মনে করেন।

সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে জোর গলায় মোদি দাবি করলেন, বিজেপির মতো করে বাংলাকে সম্মান কেউ করে না। তাঁর দাবি, “বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতিও আমাদের সরকারের আমলেই হয়েছে। বিজেপি দিল্লিতে সরকার গঠনের পরই তা হয়েছে। এর ফলে বাংলা ভাষা নিয়ে গবেষণায় আরও গতি আসবে।

বিজেপি সরকারের উদ্যোগেই দুর্গাপুজোকে ইউনেসকো কালচারাল হেরিটেজের স্বীকৃতি দিয়েছে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপিকে অবাঙালিদের দল হিসাবে দাগিয়ে দেন অনেকেই। সে কারণেই বাংলার মন জিততে ভাষা, দুর্গাপুজোর মতো বাঙালি আবেগকে কাজে লাগাতে বদ্ধপরিকর মোদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + 1 =