সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: পাথর প্রতিমা :: মঙ্গলবার ১,এপ্রিল :: গতকাল রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঢোলাহাট থানার অন্তর্গত দক্ষিণ রায়পুরের তিন নম্বর ঘেরী মিলনমোড় এলাকা।
বিস্ফোরণের জেরে প্রাণ হারায় দিন শিশু সহ মোট আটজন। ইতিমধ্যেই সুন্দরবন জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বাজি কারখানার মালিক তুষার বণিক ও চন্দ্রকান্ত বণিকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে বাগানের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণে বারুদ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ।জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দিনের বাজির ব্যবসা ওই পরিবারের।
সবুজ বাজি তৈরির লাইসেন্সও ছিল তাদের। তবে সবুজ বাজি তৈরির লাইসেন্সের আড়ালে অবৈধ বাজি তৈরি চলছিল কি না সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
তদন্তের প্রয়োজনে নমুনা সংগ্রহ করছে ফরেনসিক। বিস্ফোরণস্থলে মোতায়েন বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিস্ফোরণের জায়গা থেকে পাশেই একটি ঘর থেকে উদ্ধার বাজি তৈরির মশলা-সহ নানান সরঞ্জাম। উদ্ধার প্রচুর তার। স্থানীয় সূত্রে খবর, বিস্ফোরণ স্থলের আশপাশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে প্রচুর বারুদ ভর্তি ড্রাম।
বণিক পরিবারের এই বিস্ফোরণের জেরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে এলাকাবাসীরা। এলাকাবাসীর দাবি দীর্ঘ দিন ধরে এই এলাকায় বাজি তৈরি করত বণিক পরিবারের সদস্যরা পুলিশ সমস্ত কিছু জানতো কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের অভিযোগ শাসকদলের প্রশাসনের মদতেই দীর্ঘদিন ধরে বাজী তৈরি করা হতো বেআইনিভাবে। যদিও বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার অস্বীকার করেন পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর কুমার জানা।