নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: নিউজ ডেস্ক :: শনিবার ১৪,মার্চ :: কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজকের সভা শুরু হওয়ার আগে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর হাতে মোট প্রায় ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে।
সভা শুরু হওয়ার আগে সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পাশে ছিলেন রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। সেই সময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মোদীর হাতে গৌর-নিতাইয়ের একটি মূর্তি তুলে দেন।
তারপরেই ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে ১৮,৮৬০ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করেন মোদী। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে সড়ক, রেল ও বন্দর পরিকাঠামোর উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজকর্ম
রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে বেনজির আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । সন্দেশখালি থেকে আরজি কর— একাধিক ইস্যু টেনে এনে তিনি দাবি করেন, বাংলায় এখন অপরাধীদের রাজত্ব চলছে এবং শাসকের ছত্রছায়ায় দুষ্কৃতীরা রক্ষা পাচ্ছে।

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তৃণমূল সরকারের বিদায়ের ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হয়ে য়েছে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি অন্যায়ের কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলার সরকার সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখার বদলে অসুরক্ষিত করে তুলেছে। একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের দোহাই দিয়ে হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “সংবিধানের কুর্সিতে বসে এমন ধমক দেওয়া শোভা পায় না।”
মোদির দাবি, যারা তৃণমূলকে ভোট দেয় না, তাঁদের ‘বাঙালি’ বলে স্বীকার করা হয় না— এমন রাজনীতি বাংলায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তৃণমূলের গুন্ডামির দিন শেষ হতে চলেছে এবং বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। অপরাধীদের জন্য একমাত্র জায়গা হবে জেল।
নারী নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিঁধে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ অনেক আশা নিয়ে বামেদের হঠিয়ে তৃণমূলকে এনেছিল, কিন্তু এই সরকার গুন্ডা ও মাফিয়াদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
আরজি কর এবং সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ সেই ভয়াবহ ছবি এখনও ভোলেনি। এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলারা সুরক্ষিত থাকবেন, এটাই মোদির গ্যারান্টি।”
ব্রিগেডের মঞ্চ ৮০ ফুট চওড়া, দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের প্রতিরূপে ডিজাইন করা হয়েছে। এর সামনে ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’ স্লোগান লেখা বিশাল কাটআউট। জনসভা স্থলে ৪০,০০০-৪২,০০০ মানুষের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। বিজেপি নেতত্বের দাবি, লাখ পাঁচেক কর্মী-সমর্থক এদিনের সভা উপলক্ষে ব্রিগেডে এসেছেন।
,

