মহারাষ্ট্রের বারামতিতে উপ মুখ্যমন্ত্রীর বিমান দুর্ঘটনা – মৃত অজিত পাওয়ার – নাশকতার আশংকা ?

নিজস্ব প্রতিনিধি :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা ডেস্ক :: বুধবার ২৮,জানুয়ারি :: মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের   উড়ান ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’ জানিয়েছে, দ্বিতীয়বার রানওয়েতে নামার চেষ্টা করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে ভিএসআর ভেঞ্চারস-এর লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি।

দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার (৬৬), তাঁর দেহরক্ষী, সহকারী এবং দুই পাইলট সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

ঘড়িতে তখন সকাল ৮টা বেজে ৪৬ মিনিট। সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল বারামতি বিমানবন্দর এলাকা। বিমানবন্দরের পাশের সড়কপথে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরাতেই ধরা পড়ল সেই বিস্ফোরণের মুহূর্ত। ভিডিওয় দেখা গেল, মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ছেয়ে গিয়েছে আকাশ।

বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভেঙে পড়ে অজিতের বিমান। বিমানটিতে অজিত-সহ পাঁচ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং দু’জন ছিলেন বিমানকর্মী।

অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ জানাচ্ছে, দুর্ঘটনায় পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে একটি দল বারামতি বিমানবন্দরে পাঠাচ্ছে ডিজিসিএ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে থেকে ১০০ ফুট দূরে আছড়ে পড়ে বিমানটি। মাটিতে ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারের জন্য ছুটে এলেও আগুনের লেলিহান শিখার কারণে কাউকেই প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল ও ডিজিসিএ-র উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ডিজিসিএ প্রধান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, যে মাঝারি মাপের চার্টার্ড বিমানে করে মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন এনসিপি প্রধান অজিত, সেটি ছিল লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের ‘ভিটি-এসএসকে’ বিমান।

বম্বার্ডিয়ার এরোস্পেস সংস্থার তৈরি এই বিমানটি বুধবার সকালে বারামতিতে ভেঙে পড়ে। অবতরণের সময়ে রানওয়ের একটি ধারে ভেঙে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫। মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় তাতে।

কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, বিপর্যয়ের আগে পাইলট কোনও ‘মে ডে’ কল (বিপদ সংকেত) দেননি।

শুধু তাই নয়, প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর বিমানটিকে যখন দ্বিতীয়বার অবতরণের অনুমতি দেয় বারামতি বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, তখনও পাইলটের তরফ থেকে কোনও উত্তরও আসেনি। কেন্দ্রের এই বিবৃতির পরই ঘনীভূত হতে শুরু করল রহস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five + 3 =