নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ভবানীপুর :: বুধবার ১,এপ্রিল :: তিনদিন আগে তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে মহুয়া বলেছিলেন, “ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ে বাঙালিরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। গুজরাটি কজন ছিলেন?
কালাপানিতে যাঁদের কারারুদ্ধ করা হয়েছিল, তাঁদের ৬৮ শতাংশ বাঙালি। আপনাদের বড় হিরো বীর সাভারকার ছাড়া একজন গুজরাটির নাম বলতে পারবেন যিনি ওখানে ছিলেন?” তাঁর এই বয়ান ঘিরেই তৈরি হয়েছে জাতীয় স্তরের বিতর্ক।
স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালিদের অবদানের কথা বলতে গিয়ে কালাপানির জেল ও বীর সাভারকারের প্রসঙ্গ টেনে গুজরাটি সম্প্রদায়কে নিয়ে তাঁর করা মন্তব্য ঘিরে আবর্তিত হয়েছে কলকাতার রাজনীতি।
বিশেষ করে ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের গুজরাটি বাসিন্দারা এই অপমানে ক্ষুব্ধ। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট জানালেন, দল এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সমর্থন করে না।
সাংসদের মন্তব্যের অভিঘাত বুঝতে পেরে সরাসরি ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাউন্সিলর অসীম বসু মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো একটি বিশেষ বার্তা পড়ে শোনান। সেখানে মমতা বলেন, “আমার গুজরাটি ভাই ও বোনেদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইছি।
আমি আপনাদের জন্য গর্বিত। সংশ্লিষ্ট সাংসদের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আমরা এই মন্তব্যকে অনুমোদন করছি না। এইরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।” মহুয়ার এই মন্তব্য বিজেপির হাতে বড় হাতিয়ার তুলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অসীম বসু হিন্দি, ইংরেজি এবং গুজরাটি— তিন ভাষাতেই ক্ষমা চেয়েছেন এবং জানিয়েছেন মহুয়া মৈত্র দলের অনুমোদন ছাড়াই ওই মন্তব্য করেছিলেন।

