আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: মুম্বাই :: ১২, এপ্রিল :: ভারতীয় সংগীতের আকাশে এক যুগের অবসান। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। তাঁর প্রয়াণে স্তব্ধ গোটা দেশ, শোকস্তব্ধ সংগীত জগত।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অসংখ্য গান দিয়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া এই শিল্পীর বিদায়ে যেন এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হল।
১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বড় হওয়া, তাঁর পিতা ছিলেন বিখ্যাত গায়ক ও নাট্যশিল্পী দীননাথ মঙ্গেশকর । দিদি লতা মঙ্গেশকর-এর সঙ্গে মিলেই তিনি গড়ে তোলেন এক সুরময় উত্তরাধিকার।
হিন্দি, বাংলা, মারাঠি সহ একাধিক ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন আশা ভোঁসলে। বলিউডে তাঁর কণ্ঠে যেমন ছিল রোমান্স, তেমনই ছিল উচ্ছ্বাস, বেদনা এবং আধুনিকতার ছোঁয়া। আর ডি বর্মন এর সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দি ভারতীয় সংগীতকে নতুন মাত্রা দেয়।
“পিয়া তু আব তো আজা”, “দম মারো দম”, “ইন আঁখোঁ কি মস্তি”—এমন অসংখ্য কালজয়ী গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন।
ক্যারিয়ারে তিনি পেয়েছেন অসংখ্য সম্মান, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ । তাঁর গানের পরিধি ও বৈচিত্র্য তাঁকে করে তুলেছিল এক অনন্য শিল্পী—যিনি সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নিতে জানতেন।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণ শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়, এটি এক যুগের অবসান। তাঁর কণ্ঠস্বর, তাঁর সুর, তাঁর আবেগ—সবই থেকে যাবে চিরকাল। সংগীতপ্রেমীদের মনে তিনি বেঁচে থাকবেন অমর হয়ে।
শনিবার মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে কেবল ভারত নয়, গোটা বিশ্বের সঙ্গীত মহলে শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে।

