নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: মঙ্গলবার ১৮,মার্চ :: পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানা চত্বরে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। বাড়ির পাশে বিশাল আয়তনের পুকুরের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা মামলার জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন হোটেল ব্যবসায়ী সুশান্ত দত্ত।
সেই হতাশার চরম পর্যায়ে গিয়ে তিনি ভাতার থানার গেটের কাছে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। থানার সিভিক ভলান্টিয়র এবং পুলিশ কর্মীরা দ্রুত কম্বল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় সোমবার রাতে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে স্থানান্তরিত করা হয় গ্রিন করিডর করে।
জানা গিয়েছে, কুলচন্ডা মৌজায় ৯৯৩ দাগ নম্বরে ১ একর ৭৩ শতক আয়তনের পুকুরটি প্রায় আট বছর আগে সুশান্তবাবু কিনেছিলেন। রেকর্ড পরিবর্তনও হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন সেই পুকুরটিকে খাস জমি বলে দাবি করে আদালতে মামলা করে। ২০১৯ সাল থেকে পুকুরটির উপর তাঁর অধিকার প্রায় হারিয়েই যান সুশান্তবাবু।
কলকাতা উচ্চ আদালতের নির্দেশে বর্ধমানের জেলাশাসক বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও সম্প্রতি সেই কেসটি খারিজ হয়ে যায় এবং সুশান্তবাবুর মালিকানা দাবি নাকচ করে দেওয়া হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সুশান্তবাবু। সোমবার বিকেলে ‘বাজারে যাচ্ছি’ বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে থানার সামনেই নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।