হাড়হিম করা কুসংস্কারের বলি ! গুনিনের ফতোয়ায় ‘ডাইনি’ অপবাদে পিটিয়ে খুন ষাটোর্ধ আদিবাসী বৃদ্ধা

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বালুরঘাট :: মঙ্গলবার,০৬ ডিসেম্বর :: কুসংস্কার আর জনরোষের নির্মমতায় ফের কলঙ্কিত দক্ষিণ দিনাজপুর। গুনিনের নির্দেশে ‘ডাইনি’ অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হল ষাটোর্ধ এক আদিবাসী বৃদ্ধাকে।

এই ভয়াবহ ঘটনাকে ঘিরে থমথমে কুমারগঞ্জ ব্লকের ডাঙ্গারহাট এলাকার মামুদপুর গ্রাম। ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করলেও আতঙ্কে ঘরছাড়া মৃতার পরিবার।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত বৃদ্ধার নাম লক্ষ্মী সরেন (৬৯)। অভিযোগ, তার নাতি সঞ্জয় টুডু ধারালো হাসুয়া নিয়ে লক্ষ্মীর উপর হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে মারধর করা হয় বৃদ্ধার ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের। প্রাণভয়ে তাঁরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।

সেই সুযোগে প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে লক্ষ্মী সরেনকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর জখম অবস্থায় দীর্ঘ সময় মাটিতে পড়ে থাকলেও তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত বৃদ্ধার নাতনি সোনমি টুডু দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সেই অসুস্থতার জন্য পরিবার ও গ্রামবাসীদের একাংশ লক্ষ্মী সরেনকেই দায়ী করে। তাঁকে ‘ডাইনি’ বলে অপবাদ দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ দিন আগে গ্রামে ডাকা হয় একটি সালিশি সভা।

সেখানে প্রতিবেশী রায়খন গ্রামের এক জানগুরু প্রকাশ্যে লক্ষ্মী সরেনকে ডাইনি আখ্যা দিয়ে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের দায় দেওয়া হয় তার ছেলে মংলু টুডুর উপর।

হতদরিদ্র পরিবারটি প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ করে অন্য এক গুনিনের পরামর্শ নিলেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।

এই ঘটনার পর খবর পেয়ে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত বৃদ্ধাকে কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতার ছেলে মংলু টুডুর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত হিসেবে সঞ্জয় টুডুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে জানগুরু সহ বাকি অভিযুক্তরা এখনো অধরা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 14 =