হ্যাম রেডিও সোসাইটি অফ গ্রেট ব্রিটেন থেকে হ্যামেরা AS 153 হিসেবে গঙ্গা সাগর দ্বীপের স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে সাগর দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্ব পেয়েছে ।

সুদেষ্ণা মন্ডল  :: সংবাদ প্রবাহ :: ফলতা :: শনিবার ০৩,জানুয়ারি :: গঙ্গাসাগর মেলার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হ্যাম রেডিও। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পুণ্যার্থী ছুটে আসেন পুণ্য অর্জনের আশায় গঙ্গাসাগরে। কয়েকটা দিন এই বেলাভূমি হয়ে ওঠে যেন মিনি ভারতবর্ষ। মেলার সময় অন্যতম ভূমিকা পালন করে হ্যম রেডিও।

পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মেলা প্রাঙ্গণে এসে অসুস্থ পুন্যাার্থীদের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় স্থানান্তরিত মতন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা পালন করেন হ্যাম রেডিওর সদস্যরা। মেলাতে এসে পরিবার স্বজনের কাছে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে হারিয়ে যাওয়া পুণ্যার্থীদের ঘরে ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তারা ।গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এ র পক্ষ থেকে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে এমনটাই জানা গিয়েছে। এতদিন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে হ্যাম রেডিও সদস্যরা যোগাযোগ সাধন করে মেলা পরিচালনা করে আসছিলেন ।

এবার আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে মেলা পরিচালনা এবং স্বজন হারানোরদের পরিবারের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নয়া ব্যবস্থা নিয়েছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সদস্যরা।

এতো দিন ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মেলাতে এনালগ রেডিও দিয়ে হারিয়ে যাওয়া মানুষের পাশাপাশি মেলা চলাকালীন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া পুণ্যার্থী যাদের আরও ভালো চিকিৎসা পরিষেবা দেবার জন্য এয়ার এম্বুলেন্সে কলকাতার বিভিন্ন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হতো ।

অচেনা অজানা রোগী সহ তার ঠিকানা না জানা পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে এই নতুন প্রযুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মুহূর্তে ঐ বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হ্যাম রেডিও অপারেটরদের কাছে । ফলাফল পাওয়া যাবে দ্রুত বলে আশা করা যাচ্ছে।

এতদিন পর্যন্ত হ্যাম রেডিও অপারেটররা যে কোনো রকমের বার্তা পৌঁছে দিতো তাদের অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমে। সেখানে থেকে দেশব্যাপী বার্তা পাঠানো হত । দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে হ্যামেরা এই ভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। এবার মেলার কিছু ভৌগোলিক পরির্বতনের জন্য হ্যাম রেডিও কন্ট্রোল রুমের বেশী চাপ থাকার সম্ভাবনা আছে।

এছাড়া কুম্ভ মেলা না থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর পরিমানে পুণ্যার্থী সাগরে আসবেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও সাগর মেলাকে আন্তরজাতিক স্তরে উন্নীত করতে হ্যাম রেডিও সোসাইটি অফ গ্রেট ব্রিটেন থেকে হ্যামেরা AS 153 হিসেবে গঙ্গা সাগর দ্বীপের স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে সাগর দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্ব পেয়েছে ।

সারা বছরই বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে পর্যটক আসেন সাগরে। এতে ঐ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আশা করা যায়। বিদেশ থেকে প্রচুর মানুষ সাগর মেলা চলাকালীন জানতে চান মেলা সম্পর্কে। সে ক্ষেত্রে রেডিওতে কান রাখলেই পেয়ে যাবে লাইভ আপডেট। সাথে সাথে দ্রুত বিপর্যয় মোকাবিলা করতে কাজে লাগবে এই রেডিও বার্তা।

‘ডি এম আর ‘ রেডিও হল চলমান বিশ্বে রেডিও তরঙ্গের নতুন প্রযুক্তি । হ্যাঁ অন্য বিষয় আছে বটে সব থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা হল ঐ বার্তা বিনিময় গোপন রাখা যাবে । জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বিনিময় নিজেরাই শুনতে পারবে । ঐ তরঙ্গে থাকা অন্য কেউ শুনতেই পাবে না যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মেলাতে মাইক বা ভিড়ের মাঝে কোনো রকমের বার্তা থেকে সংখ্যা যেমন গাড়ীর নম্বর ইত্যাদি শোনার সমস্যা হলে , কুছ পরোয়া নেহি ।এসএমএস পাঠান যাবে রেডিও থেকেই। তাই সাগর এবার ডিজিটাল ।

এ বিষয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস বলেন, এবছর মহা কুম্ভ মেলা না থাকার কারণে গঙ্গাসাগরে রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থীদের সমাগম হতে পারে। প্রতিবছর অ্যানালগ মাধ্যমে বার্তা আদান প্রদান করা হতো । এ বছর পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য নয়া ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এর ফলে খুব দ্রুততার সাথে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে যেমন যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে । তেমনি বেতার তরঙ্গের সাহায্যের মাধ্যমে এসএমএস পাঠিয়ে খুব তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান করা যাবে। নিরাপত্তা আরো সুনিশ্চিত এবং প্রশাসনিক বার্তা আরো সুনিশ্চিত ভাবে প্রেরণ করার জন্য এই ব্যবস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − 18 =