আজ মমতার ইস্তেহার প্রকাশ, নজরে নতুন প্রকল্প !!

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শুক্রবার ২০,মার্চ :: আজ, বিকেল চারটেয় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করতে চলেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । একুশের নির্বাচনের মতো আসন্ন ভোটযুদ্ধেও শাসক দলের বিশেষ কিছু ভোটকৌশল ও চমক থাকতে পারে বলে একপ্রকার নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল।

তাই আজকের এই ঘোষণার দিকে কড়া নজর রয়েছে সব পক্ষের। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করবেন দলনেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই ঘোষণার দিকেই।

এবারের ইস্তেহারে একাধিক নতুন জনমুখী প্রকল্প, পুরনো জনপ্রিয় প্রকল্পের সম্প্রসারণ এবং শহর ও গ্রামের জন্য আলাদা উন্নয়ন-রূপরেখা উঠে আসতে পারে বলেই দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে,

এবারের ইস্তেহারে মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা, যুবকদের কর্মসংস্থান, কৃষকদের সহায়তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং নাগরিক পরিকাঠামো—এই কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শাসকদল চাইছে, বিগত সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে আরও শক্ত বার্তা পৌঁছে দিতে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, দুয়ারে সরকার—এইসব প্রকল্প ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে প্রভাব ফেলেছে।

ফলে ইস্তেহার প্রকাশের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত এই প্রকল্পগুলির সাফল্য তুলে ধরবেন এবং তার সঙ্গে নতুন কিছু সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করবেন।

বিশেষ করে শহুরে ভোটার, মহিলা ভোটার, প্রথমবারের ভোটার এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে লক্ষ্য করেই ইস্তেহারের বড় অংশ সাজানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলের অন্দরের খবর, কলকাতা ও শহরতলির জন্য আলাদা জোর দেওয়া হতে পারে নাগরিক পরিকাঠামোয়।

পানীয় জল, নিকাশি, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, পুরসেবা আধুনিকীকরণ, ছোট ব্যবসার সহায়তা এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মতো বিষয় ইস্তেহারে স্থান পেতে পারে। সেইসঙ্গে গ্রামীণ বাংলায় কৃষি, আবাসন, রাস্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরকারি পরিষেবা আরও সহজলভ্য করার প্রতিশ্রুতিও থাকতে পারে।

আজকের এই ইস্তেহার প্রকাশকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে আর একটি কারণে—ভবানীপুর। মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক মর্যাদার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই বিধানসভা আসন এবারও রাজ্য রাজনীতির অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে।

বিজেপি ইতিমধ্যেই ভবানীপুরকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফলে মমতার ইস্তেহার প্রকাশের দিন থেকেই ভবানীপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তৃণমূলের কাছে ভবানীপুর শুধু একটি আসন নয়, বরং এটি রাজনৈতিক প্রতীক। এই কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, সংগঠনের শক্তি, মহিলা ভোট এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে ভরসা করেই দল আত্মবিশ্বাসী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 4 =