৩৫ পাতার চার্জশিটের জবাবে ১৫ পাতার ‘মোটা ভাই জবাব দাও’—রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বাকযুদ্ধ

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শনিবার ২৮,মার্চ :: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর ৩৫ পাতার চার্জশিট এবং তার জবাবে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ পাতার পাল্টা পুস্তিকা ‘মোটা ভাই জবাব দাও’।

দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি নথি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বিজেপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত ৩৫ পাতার চার্জশিটে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়।সেই নথিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্নীতি, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হন অমিত শাহ । বিজেপির দাবি, এই চার্জশিট রাজ্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।

এর পাল্টা হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস ১৫ পাতার একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ‘মোটা ভাই জবাব দাও’। এই পুস্তিকায় সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা এবং বিজেপির নীতির সমালোচনা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছে, বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তৃণমূলের পুস্তিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহার, রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বৈষম্যের অভিযোগ। পাশাপাশি ‘মোটা ভাই’ সম্বোধন করে সরাসরি অমিত শাহকে একাধিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি নথি প্রকাশ আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করার একটি কৌশল। একদিকে বিজেপি রাজ্যের শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে মরিয়া।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ বিজেপির অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, আবার কেউ তৃণমূলের পাল্টা দাবিকে সমর্থন করছেন।

সব মিলিয়ে, ৩৫ পাতার চার্জশিট বনাম ১৫ পাতার ‘মোটা ভাই জবাব দাও’—এই রাজনৈতিক সংঘাত যে নির্বাচনের আগে আরও তীব্র হবে, তা বলাই যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + one =