রাজনৈতিক পোস্টারে ঢেকেছে রাজ্য, মেশিন থামার নাম নেই!

সুদেষ্ণা মন্ডল  :: সংবাদ প্রবাহ :: জয়নগর :: সোমবার ৩০,মার্চ :: ভোটের মরশুম মানেই রাজনীতির উত্তাপ তুঙ্গে। মাঠে-ময়দানে প্রচারের পাশাপাশি সমান তালে সরগরম হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্রিন্টিং ছাপাখানাগুলিও। রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার এখন ডিজিটাল ফ্লেক্স ও ব্যানার।

ফলে ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই কাজের চাপে দম ফেলার ফুরসত নেই এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকায় একাধিক ডিজিটাল প্রিন্টিং ছাপাখানায় এখন কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি।

সকাল থেকে গভীর রাত—কখনও বা ভোর পর্যন্ত চলছে মেশিনের শব্দ। নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই কর্মীদের। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ছবি, প্রতীক ও স্লোগান দিয়ে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য ব্যানার ও ফ্লেক্স, যা পরে ছড়িয়ে পড়ছে গ্রাম থেকে শহরের অলিতে-গলিতে।

ডিজিটাল প্রিন্টিং এখন ভোট প্রচারের এক অত্যন্ত কার্যকরী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। রঙিন, বড় আকারের এবং চোখে পড়ার মতো এই ফ্লেক্স ব্যানার সহজেই মানুষের নজর কাড়ে।

ফলে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই প্রচারের ক্ষেত্রে এই মাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম থেকে শুরু করে SUCI—প্রতিটি দলের অর্ডারেই এখন ব্যস্ত ছাপাখানাগুলি।

জয়নগরের এক ছাপাখানার মালিক শাহাবুদ্দিন ঢালী জানালেন, কাজের চাপ বাড়লেও লাভের অঙ্কটা ততটা সুখকর নয়। তাঁর কথায়, “বর্তমান পরিস্থিতিতে কাঁচামালের দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে এই ব্যবসায়।

সারা বছর যে দামে আমরা ফ্লেক্স বিক্রি করি, ভোটের সময় প্রতিযোগিতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তার থেকেও কম দামে দিতে হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, কাঁচামাল সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। “যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাইরে থেকে কাঁচামাল আনতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। ফলে সময়মতো অর্ডার ডেলিভারি দেওয়াও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে,” বলেন তিনি।

দিনরাত পরিশ্রম করেও বাড়তি লাভের মুখ না দেখে চিন্তায় ছাপাখানার মালিক ও কর্মীরা। তবুও আশা একটাই—নির্বাচনের এই ব্যস্ততা কিছুটা হলেও তাদের আর্থিক সঙ্কট কাটাতে সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 − 4 =