প্রচারে বাধা, রাস্তায় আগুন – ডায়মন্ড হারবারে বিজেপির বিক্ষোভে থমকে জাতীয় সড়ক

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ডায়মন্ডহারবার :: বৃহস্পতিবার ২,এপ্রিল :: ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমশ চরমে উঠছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেই উত্তাপ নতুন মাত্রা পেল, যখন প্রচারে বাধার অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার এবং তাঁর সমর্থকেরা।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মানখন্ড এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে যান বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার।

অভিযোগ, সেখানেই তাঁর প্রচারে বাধা দেয় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা।শুধু বাধাই নয়, তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখানো হয় বলে দাবি বিজেপি প্রার্থীর। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় এবং পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করে।

দীপক হালদারের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচার চালাতে গেলে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে এবং তাঁর দলীয় কর্মীদের। তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি কর্মীরা এলাকায় দেয়াল লিখন করতেও পারছেন না।

তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং এই কাজে পুলিশ প্রশাসনের একাংশ শাসকদলকে মদত দিচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “গণতান্ত্রিক পরিবেশে যেখানে সকল দলের সমান সুযোগ থাকার কথা, সেখানে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে।”

বুধবার মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকের ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) দপ্তর ঘেরাও করে ডেপুটেশন জমা দিল সিপিএমের কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকের একাধিক এলাকায় বহু প্রকৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

অভিযোগ, ‘এসআইআর’-এর নামে বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের সময় সাধারণ মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক নথি থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের নাম বাদ পড়ছে বলে দাবি সিপিএম নেতৃত্বের।

এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মিছিল করে সিপিএম কর্মী-সমর্থকেরা মগরাহাট ২ নম্বর ব্লক অফিসের সামনে জড়ো হন। লাল পতাকায় ছেয়ে যায় গোটা এলাকা।

বিক্ষোভকারীরা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’, ‘ভোটার তালিকা সংশোধন করো’, ‘হয়রানি বন্ধ করো’—এইসব স্লোগানে উদ্বেলিত করে তোলেন এলাকা। পরে বিডিও অফিস ঘেরাও করে তাঁদের দাবিপত্র জমা দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মগরাহাট পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী চন্দন সাহা।

নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই ধরনের বিতর্ক ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং এই ইস্যু আগামী নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 + 14 =