নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কোচবিহার :: রবিবার ৫,এপ্রিল :: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে এসে কোচবিহারের জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ।
মালদহে বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে তিনি অভিযোগ করেন, “ওখানে বিচারকদের কার্যত বন্ধক বানানো হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁর কথায়, “যেখানে বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা নেই, সেখানে গণতন্ত্রও নিরাপদ নয়।” এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মোদি বলেন, ‘নির্বাচনের পর এদের (তৃণমূলের) পাপের হিসেব হবে। ৪ মের পর আইন নিজের কাজ করবে। এবার ন্যায় হবেই।’ মোদি জানান, এত বছর ধরে বাংলার অর্থ লুট হয়েছে। সব দুর্নীতিবাজকে লুটের পয়সা ফেরাতে হবে।
তাঁর অভিযোগ, এখানকার ‘নির্মম’ সরকার প্রতিদিন গণতন্ত্রকে রক্তাক্ত করছে। মালদার বিচার বিভাগের আধিকারিকদের বন্ধক বানানো হয়েছে বলে তোপ দাগেন মোদি। তিনি বলেন, “গোটা দেশ শিউরে উঠে দেখেছে, কীভাবে বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছিল।
তৃণমূলের শাসনে বিচারকেরাও রেহাই পান না। কালিয়াচকের ঘটনা তৃণমূলের নির্মম সরকারের মহাজঙ্গলরাজের উদাহরণ।” অবস্থা এতটাই খারাপ যে দেশের সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
মোদী বলেন, “৪ মে-র পর পরিস্থিতি বদলাবে। আইন নিজের পথে চলবে এবং যারা অন্যায় করেছে, তাদের জবাবদিহি করতেই হবে।” তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল ভোট-পরবর্তী প্রশাসনিক কড়াকড়ির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।
সভা থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকেও নিশানা করেন তিনি। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকারকে আক্রমণ করে মোদী বলেন, “এখানে দুর্নীতি, তোষণ আর সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। বাংলার মানুষ এই অবস্থা থেকে মুক্তি চাইছে।”
এদিকে, মোদীর এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করছেন। তাদের বক্তব্য, “বাংলার বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এ ধরনের মন্তব্য বিচারব্যবস্থার প্রতি অবমাননা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের তীব্র আক্রমণ ভোটের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এই বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।

