নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: মিনাখাঁ :: শুক্রবার ১০,এপ্রিল :: মিনাখার জনসভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুন্দরবনকে পৃথক জেলা হিসেবে ঘোষণার কথা জানাতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছে গোটা দ্বীপাঞ্চল।
বহুদিনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই ঘোষণা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, সুন্দরবনের মানুষের কাছে এটি আবেগ, স্বপ্নপূরণ এবং উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ সুন্দরবন অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক পরিষেবার সীমাবদ্ধতার কারণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।
নদী, খাঁড়ি, জোয়ার-ভাটার প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে এখানকার মানুষকে প্রতিদিন জীবনযাপন করতে হয়। ফলে প্রশাসনিক কাজে জেলা সদর পর্যন্ত পৌঁছানো বহু ক্ষেত্রেই সময়সাপেক্ষ ও দুরূহ হয়ে দাঁড়াত।
সেই সমস্যার সমাধান করতেই রাজ্য সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।এই ঘোষণার পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ লক্ষ্য করা গিয়েছে।
অনেকেই একে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে অভিহিত করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নতুন জেলা গঠিত হলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক পরিষেবা অনেক দ্রুত ও সহজলভ্য হবে। বিশেষ করে দূরবর্তী দ্বীপগুলির মানুষের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।
এই প্রসঙ্গে মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার বলেন, “সুন্দরবনকে নতুন প্রশাসনিক জেলা হিসেবে ঘোষণা করায় আমরা অত্যন্ত খুশি এবং কৃতজ্ঞ। বহু মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল এটি।
মুখ্যমন্ত্রী মানুষের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে এলাকার উন্নয়ন আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে।”সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রায় ২৮টি ব্লক নিয়ে গঠিত হতে চলেছে এই নতুন জেলা।
যদিও চূড়ান্ত তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ দ্বীপাঞ্চল এই জেলার অন্তর্ভুক্ত হবে বলেই জানা যাচ্ছে। প্রশাসনিক দিক থেকে এই পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুন্দরবন পুলিশ জেলা, বারুইপুর পুলিশ জেলা এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা গঠন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণা করা হল, যা প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের একটি বড় উদাহরণ।
নতুন জেলার সম্ভাব্য সদর দপ্তর হিসেবে বারুইপুরের নাম উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর।যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা, পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করেই সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হবে।
তবে বারুইপুর ভৌগোলিকভাবে তুলনামূলকভাবে সংযুক্ত এবং প্রশাসনিক সুবিধার দিক থেকে উপযুক্ত হওয়ায় সেটিকেই সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, কবে এই ঘোষণা আনুষ্ঠানিক রূপ পায় এবং কীভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়। তবে আপাতত আনন্দে ভাসছে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ দ্বীপাঞ্চল, আর মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের।

