নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ফারাক্কা :: শুক্রবার ২৪,এপ্রিল :: ফারাক্কা বিধানসভায় ভোটের দিন এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী চিত্র ধরা পড়ল, যা রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সাধারণত ভোটের দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে টানটান উত্তেজনা ও বিরোধের ছবি সামনে আসে, তবে আজ ফারাক্কায় দেখা গেল তার সম্পূর্ণ বিপরীত এক পরিবেশ। এদিন ফারাক্কা বিধানসভার একটি এলাকায় পাশাপাশি অবস্থান করতে দেখা যায় কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়।
দুই দলের কর্মী-সমর্থকেরা নিজেদের রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করলেও, তাদের আচরণে ছিল পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার ছাপ। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে কোথাও কোনো অশান্তি বা সংঘর্ষের ছবি চোখে পড়েনি, বরং ছিল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নজির।
কংগ্রেসের এক সদস্য জানান, “রাজনীতি নিজের জায়গায় আছে, কিন্তু দিনের শেষে আমরা সবাই একে অপরের ভাই। ভোট আসবে যাবে, কিন্তু সম্পর্ক অটুট থাকা জরুরি।” একইসঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, ফারাক্কা বিধানসভায় জাতীয় কংগ্রেস ২০ থেকে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় থেকেও উঠে আসে প্রায় একই সুর। এক তৃণমূল কর্মী বলেন, “দিনভর আমরা রাজনৈতিক কাজ করি ঠিকই, কিন্তু দিনের শেষে সবাইকে নিজের বাড়িতেই ফিরতে হয়। তাই ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখাটাই আসল।” তিনি আরও দাবি করেন, ফারাক্কা বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ২৫ থেকে ৩০ হাজার ভোটে জয়ী হবে।
দুই দলের কর্মীদের এই বক্তব্য ও আচরণ প্রমাণ করে দেয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও মানবিক সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধন অনেক বড়। ফারাক্কার এই চিত্র নিঃসন্দেহে রাজনীতির উত্তপ্ত পরিবেশে এক ইতিবাচক বার্তা দেয়—বিভেদের মাঝেও মিল খুঁজে নেওয়াই প্রকৃত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

