‘ডেলিভারির নামে মৃত্যু !’ বর্ধমানে নার্সিংহোম ভাঙচুর, তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: শনিবার ২৫,এপ্রিল :: পূর্ব বর্ধমান জেলার শহর বর্ধমানে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায় এক বেসরকারি নার্সিংহোমে। অভিযোগের তীর বেসরকারি নার্সিংহোমের দিকে।

ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ জনতা নার্সিংহোমে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ইতিমধ্যেই নার্সিংহোমের মালিক-সহ তিন কর্মীকে আটক করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।জানা গিয়েছে, মঙ্গলকোট এলাকার বাসিন্দা ২৩ বছরের রিজিয়া খাতুন প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি হন। পরিবারের দাবি, সুস্থ অবস্থাতেই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

মৃতার মা অভিযোগ করেন,“আমার মেয়েকে যখন অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে ‘মা মা’ করে চিৎকার করছিল। আমরা বারবার জানতে চেয়েছি কী হয়েছে, কিন্তু কেউ কিছু বলেনি।

হাতজোড় করে অনুরোধ করলেও কোনও তথ্য দেয়নি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। শুধু বলেছে প্রেসার বেড়েছে, ঠিক হয়ে যাবে। শেষে আমার মেয়েকে ওরা কুরবানী দিয়ে দিল”!

পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অভিযোগ আরও তীব্র। মৃতার মামা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এরা মানুষ না অমানুষ? আমার ভাগ্নি মারা গেল—আর যারা এখনও ভর্তি আছে, তাদের কী  হবে ? আমরা সরাসরি ডাক্তারের মাধ্যমে ভর্তি করেছিলাম। এখানে চিকিৎসা নয়, টাকা রোজগারটাই আসল লক্ষ্য”!

অভিযোগ, চিকিৎসার নামে গাফিলতি এবং তথ্য গোপনের জেরেই এই মৃত্যু। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষুব্ধ জনতা নার্সিংহোমে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ । নার্সিংহোমের মালিক ডাঃ প্রণয় ঘোষের দাবি, বৃহস্পতিবার রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন হয় |

অপারেশন চলাকালীনই রোগীর খিঁচুনি শুরু হয়। যদিও অপারেশন সফল হয়, কিন্তু পরবর্তীতে মা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

এরপর পরিবারের অনুমতি নিয়েই নবজাতককে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রোগীকে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হতে থাকায় রাতেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে দাবি তাঁর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + 4 =