নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: নয়াদিল্লি :: শনিবার ২,মে :: রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করে আজ দেশের শীর্ষ আদালত তৃণমূল-সম্পর্কিত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল।
কেন্দ্রীয় কর্মচারী নিয়োগ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশই বহাল রাখল আদালত, যা রাজ্য সরকারের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আইনজীবী কপিল সিব্বল
আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত কমিশনের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার মতো পর্যাপ্ত কারণ রাজ্য সরকার দেখাতে পারেনি বলেই মত শীর্ষ আদালতের।
এই মামলায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় কর্মচারী নিয়োগে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর উপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী।
তবে আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে জানায়, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে। বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চ জানিয়ে দিল, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই হবে গণনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় কার্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের পথ আরও সুগম করল এবং রাজ্যের উপর কমিশনের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হল। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং দাবি করেছে, এর ফলে “অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন” নিশ্চিত করা সহজ হবে।
অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, “রাজ্যের সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। আমরা আইনি ও রাজনৈতিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করছি।”
তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রতি টেবিলে যখন মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্মীরা থাকছেনই, তবে কাউন্টিং সুপারভাইজার হিসেবে কেন শুধু তাঁদেরই রাখা হচ্ছে? রাজ্য সরকারি কর্মীদের কি বিশ্বাস করা যাচ্ছে না?”
সিব্বলের দাবি ছিল, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত পরোক্ষভাবে রাজ্য প্রশাসনের ওপর অনাস্থা প্রকাশ এবং বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোকে অনেক দেরিতে জানানো হয়েছে।
এই রায়ের পর আসন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কর্মচারীদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক স্তরেও ইতিমধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে, যাতে কমিশনের নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করা যায়। সব মিলিয়ে, শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

