নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: রবিবার ১০,মে :: রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একদিকে নির্বাচনী ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা।
এই আবহেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বিরোধী শক্তির সঙ্গে দূরত্ব কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। তবে সেই সম্ভাবনায় কার্যত জল ঢেলে দিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মোঃ সেলিম ।
শনিবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে মহঃ সেলিম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলার মানুষ তৃণমূল ও বিজেপি— দু’পক্ষের রাজনীতিতেই ক্লান্ত। এখন কোনও রাজনৈতিক সংকটে পড়ে কেউ বামেদের ব্যবহার করতে চাইলে তা হবে না। বামফ্রন্ট নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই লড়াই চালাবে।”
তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা। কারণ গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছিল যে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায়
তৃণমূল নেতৃত্ব হয়তো বিজেপি বিরোধিতার প্রশ্নে বামেদের সঙ্গে নরম অবস্থান নিতে পারে। যদিও তৃণমূলের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।
মহঃ সেলিম আরও বলেন,“যখন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর আক্রমণ হয়েছে, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, তখন বামেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেছে তৃণমূলই। এখন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মত পাল্টালেই মানুষ তা মেনে নেবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মূল সমস্যা— বেকারত্ব, দুর্নীতি, শিল্পহীনতা ও কৃষকদের দুরবস্থা— এসব প্রশ্ন থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই নতুন রাজনৈতিক নাটক তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বামেদের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে আগামী দিনে বিরোধী রাজনীতিতে তারা নিজেদের স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে সংগঠন বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে বাম শিবির।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেন, “মানুষের সমর্থন তৃণমূলের সঙ্গেই আছে। কে কী বলল, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মহঃ সেলিমের মন্তব্যে আপাতত স্পষ্ট, তৃণমূলের সঙ্গে কোনও ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটতে রাজি নয় ।

