“তৃণমূলে আমরা ছিলাম চাকর – গত পাঁচ বছরে দল কোনো সিস্টেমে চলেনি” – বললেন নেত্রী পাপিয়া ঘোষ – উত্তরবঙ্গে বিদ্রোহ তৃণমূলে

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: শিলিগুড়ি :: রবিবার ১০,মে :: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে ক্ষোভ ও বিদ্রোহের সুর আরও জোরালো হল। এবার প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি পাপিয়া ঘোষ।

এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “আমরা এতদিন তৃণমূলে শুধু চাকর-বাকরের মতো কাজ করেছি। দলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ছিল না, সম্মানও ছিল না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

                                                                                                         পাপিয়া ঘোষ

পাপিয়া ঘোষের অভিযোগ, জেলা স্তরের নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে সব সিদ্ধান্ত উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হত। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করেও বারবার অপমানিত হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর কথায়, “মাঠে-ঘাটে কর্মীরা লড়াই করেছে, আর কয়েকজন নেতা সব কৃতিত্ব নিয়েছে। সাধারণ কর্মীদের মূল্য নেই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। জেলা সভাপতির পদে থাকাকালীন একাধিকবার সংগঠনের স্বার্থে মতামত দিলেও তা গুরুত্ব পায়নি। বরং বিরোধিতা করলেই ‘দলবিরোধী’ তকমা দেওয়া হত বলে দাবি তাঁর।

পাপিয়া ঘোষের এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে আসতেই জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও দলের বর্তমান নেতৃত্ব বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। এক জেলা নেতা পাল্টা বলেন, “ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এসব মন্তব্য করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসে কর্মীদের যথেষ্ট সম্মান দেওয়া হয়।”

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরে ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসছে। একের পর এক প্রাক্তন নেতা ও সংগঠক প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় সংগঠনের ভিতরে চাপা অসন্তোষ যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট।

বিরোধী দলগুলিও এই ঘটনাকে হাতিয়ার করতে শুরু করেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই স্বৈরাচারী সংস্কৃতি চলছে এবং এখন নেতারাই তা প্রকাশ্যে আনছেন। বাম নেতৃত্বও কটাক্ষ করে বলেছে, “যে দল গণতন্ত্রের কথা বলে, তাদের ঘরেই গণতন্ত্র নেই।”

পাপিয়া ঘোষ ভবিষ্যতে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও তিনি এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব এখন অনেকটাই বেড়েছে।

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে এ ধরনের প্রকাশ্য বিদ্রোহ তৃণমূলের জন্য অস্বস্তি আরও বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে জেলা স্তরে সংগঠনের ঐক্য বজায় রাখা এখন দলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এদিকে আস্তে আস্তে শিলিগুড়িতেও আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে ।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে গৌতম শিলিগুড়ি শহরের অভিভাবক হতে চেয়েছিলেন। ভোটের ফল অবশ্য তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি। হেরে গৌতম দেব অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন। তাঁর শরীরী ভাষায় সেই ভাঙন পরিষ্কার।

তাঁকে ঘিরে থাকা ভিড় এখন অনেকটাই পাতলা। এর ওপর দলের অন্দরে কাদা ছোড়াছুড়িতে শিলিগুড়ির মেয়র এখন অনেকটাই কোণঠাসা। পুরনিগমে যাওয়া-আসা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন।

ভোটের ফল ঘোষণার পর গৌতম বুধবার পুরনিগমে যান। গুটিকয়েক জরুরি ফাইলে সই করার পর পুর কমিশনার সহ ফিন্যান্স অফিসারের সঙ্গে বৈঠকও সারেন। তবে এবার কি শিলিগুড়ির গৌতম দেবের বিদ্রোহের  পালা ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen + 3 =