নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা নিউজ ব্যুরো :: রবিবার ১০,মে :: রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আনা হল বড়সড় বদল। এবার থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চারপাশে থাকবে “দ্বিস্তরীয় রক্ষা কবচ”।
অর্থাৎ রাজ্য পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রশিক্ষিত জওয়ানরাও। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দেশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ধাঁচেই এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পাচ্ছেন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্টে একাধিক সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত মিলেছে। সেই কারণেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর এই যৌথ নিরাপত্তা বলয় গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ, রাজ্য গোয়েন্দা শাখা ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিকদের নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, নবান্ন, সরকারি অনুষ্ঠানস্থল এবং সফরসূচির প্রতিটি জায়গায় নতুন করে নিরাপত্তা প্রোটোকল চালু করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে থাকবে বুলেটপ্রুফ গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি, অ্যান্টি-স্যাবোটাজ চেকিং টিম, ড্রোন নজরদারি এবং কুইক রেসপন্স টিম।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের রাস্তাগুলিতেও বাড়ানো হবে নজরদারি। রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন,“এটি শুধু একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা নয়, সাংবিধানিক পদমর্যাদার সুরক্ষার বিষয়। তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিটকে ইতিমধ্যেই কলকাতায় আনা হয়েছে বলে খবর। তারা মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা রুট, সভাস্থল এবং সফর এলাকা খতিয়ে দেখছে। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্নাইপার ইউনিট ও বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াডও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণেই এই বাড়তি নিরাপত্তা। যদিও শাসকদলের বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না।
দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের মতো বাংলাতেও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।” সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো কার্যকর হবে। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের আশপাশে সিসিটিভি নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও দর্শনার্থীদের ক্ষেত্রেও চালু হচ্ছে নতুন বিধিনিষেধ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী একইসঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এত বড় পরিসরে সুরক্ষা পাচ্ছেন। ফলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক— দুই মহলেই এই সিদ্ধান্ত এখন আলোচনার বিষয় ।

