নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা ডেস্ক :: রবিবার ১০,মে :: রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে অসন্তোষ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। একের পর এক নেতা প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
এবার দলের অভ্যন্তরে “অবৈধ আর্থিক লেনদেন” এবং “প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি” নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের প্রাক্তন মুখপাত্র ঋজু দত্ত। তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চাপের মুখে রাজ্যের শাসকদল।
কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে ঋজু দত্ত দাবি করেন, “দলের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করছে। সাধারণ কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর কিছু প্রভাবশালী নেতা কোটি কোটি টাকার লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছেন।”
যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর ইঙ্গিত যে দলের শীর্ষস্তরের একাংশের দিকে, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট। ঋজু দত্ত আরও অভিযোগ করেন, দলের ভিতরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রায় নেই বললেই চলে। তাঁর কথায়, “যে কেউ প্রশ্ন তুললেই তাকে কোণঠাসা করা হচ্ছে।
সংগঠনের আদর্শ থেকে সরে গিয়ে এখন ক্ষমতা ও অর্থকেন্দ্রিক রাজনীতি চলছে।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলের অন্দরে ব্যাপক অস্বস্তি ছড়িয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের ভিতরে ক্ষোভ ক্রমশ প্রকাশ্যে চলে আসছে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার একাধিক সংগঠনিক স্তরে অসন্তোষ, জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং
টিকিট বণ্টন নিয়ে বিতর্ক ইতিমধ্যেই দলের অন্দরমহলে চাপ বাড়িয়েছে। তার মধ্যেই প্রাক্তন মুখপাত্রের এহেন বিস্ফোরক অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।
শাসক দল বিজেপি ও বাম শিবির অবশ্য এই ঘটনাকে হাতিয়ার করতে শুরু করেছে। বিজেপির এক রাজ্য নেতা দাবি করেছেন, “তৃণমূলের ভিতরে দুর্নীতি এতটাই গভীরে পৌঁছেছে যে এখন তাঁদের নিজের নেতারাই মুখ খুলতে বাধ্য হচ্ছেন।”
অন্যদিকে বাম নেতাদের বক্তব্য, “দীর্ঘদিন ধরে যেসব অভিযোগ উঠছিল, এখন সেগুলিই তৃণমূলের ভেতর থেকে সামনে আসছে।”
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ঋজু দত্তের অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের এক মুখপাত্র বলেন, “ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এ ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। তৃণমূল একটি বৃহৎ দল, এখানে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলের অন্দরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা এখন আর চাপা থাকছে না।
একের পর এক নেতার প্রকাশ্য বিদ্রোহ ও অভিযোগে তৃণমূলের সংগঠনিক ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আগামী দিনে এই অসন্তোষ আরও বড় আকার নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।

