“তালা খুলে জনপরিষেবা চালু, সরানো হল বিজেপির পতাকা — বারুইপুরে ব্যতিক্রমী বার্তা বিশ্বজিৎ পালের”

সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: বারুইপুর :: সোমবার ১১,মে :: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক পঞ্চায়েতে তালাবন্দি পরিস্থিতির অভিযোগ সামনে আসে। সেই আবহেই সোমবার বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী ছবি।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পঞ্চায়েতের তালা খুলে সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নিলেন বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল। শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েত ভবনের সামনে লাগানো বিজেপির দলীয় পতাকাও সরিয়ে ফেলা হয় তাঁর উপস্থিতিতেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের সময় সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করার কারণে বহু পঞ্চায়েতে স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই সময় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের কারণে পঞ্চায়েত ভবনগুলিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও বেশ কিছু জায়গায় সেই তালা আর খোলা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র, আবাস যোজনা, বার্ধক্য ভাতা, রেশন, পানীয় জল সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার সকালে কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং এলাকার বহু সাধারণ মানুষ।

প্রথমে পঞ্চায়েত ভবনের সামনে লাগানো বিজেপির পতাকা খুলে ফেলা হয়। এরপর পঞ্চায়েতের তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করা হয় এবং স্বাভাবিক পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তাঁদের বক্তব্য, পঞ্চায়েত কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি সাধারণ মানুষের পরিষেবা দেওয়ার কেন্দ্র। তাই সেখানে রাজনৈতিক রং নয়, মানুষের স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, “নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক প্রয়োজনে পরিষেবা বন্ধ ছিল। কিন্তু এখন সাধারণ মানুষ যাতে আবার স্বাভাবিক পরিষেবা পান, সেই কারণেই আজ পঞ্চায়েত খোলা হয়েছে। আমরা চাই মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারি সুবিধা পাক।”

তিনি আরও বলেন, “পঞ্চায়েত মানুষের। এখানে কোনও রাজনৈতিক দখলদারিত্বের প্রশ্ন নেই। তাই পঞ্চায়েতের সামনে লাগানো দলীয় পতাকাও খুলে দেওয়া হয়েছে।

পরিবর্তনের পরে মানুষ নতুন আশার আলো দেখছেন। সেই আনন্দ ভাগ করে নিতেই আজ কর্মী, পঞ্চায়েত কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষকে মিষ্টিমুখ করানো হয়েছে।”

এদিন পঞ্চায়েত চত্বরে উৎসবের আবহও চোখে পড়ে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মিষ্টি বিতরণ করা হয়। দীর্ঘদিন পর পঞ্চায়েত খুলে যাওয়ায় খুশি সাধারণ মানুষও।

এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বহু জরুরি কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। পঞ্চায়েত খুলে যাওয়ায় এখন সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, গোটা ঘটনাটির মধ্যেই রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য জনপরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় পঞ্চায়েত ঘিরে উত্তেজনা, দলবদল ও দখল রাজনীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তারই মধ্যে কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির পতাকা সরিয়ে পরিষেবা চালুর এই ঘটনাকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

এলাকায় যাতে শান্তি বজায় থাকে এবং মানুষ স্বাভাবিক পরিষেবা পান, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + 12 =