বারুইপুরে বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালকে মারধরের অভিযোগে তোলপাড়, সাসপেন্ড আইসি ও সাব-ইন্সপেক্টর

সুদেষ্ণা মন্ডল   :: সংবাদ প্রবাহ :: বারুইপুর :: মঙ্গলবার ১২,মে :: বারুইপুরে বিজেপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগে তোলপাড়, সাসপেন্ড আইসি ও সাব-ইন্সপেক্টর। প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য, ঘটনার তদন্তে বিশেষ টিম।

বারুইপুরে বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য পুলিশ। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলতেই বারুইপুর থানার আইসি সমর দে এবং এক সাব-ইন্সপেক্টর সুকুমার রুইদাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

                                                                                   সাসপেন্ড আই সি – সমর দে  

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রের খবর, গতকাল রাতে বারুইপুর এলাকায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে ফেরার সময় বিজেপির স্থানীয় প্রার্থী ও তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা বাধে। অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ প্রার্থীর উপর শারীরিকভাবে আক্রমণ চালায়।

বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, প্রার্থীকে থানায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়। ঘটনার পরেই বিজেপি নেতৃত্ব তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়। দলের জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, “এটি গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।

বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করতেই পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে।” ঘটনার প্রতিবাদে আজ সকাল থেকেই বারুইপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। রাস্তা অবরোধ ও থানার সামনে ধর্নায় বসেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।

অন্যদিকে, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। রাতারাতি ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়। এরপরই প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে বারুইপুর থানার আইসি ও সংশ্লিষ্ট সাব-ইন্সপেক্টরকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। যদি কোনও পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনায় শাসকদলও অস্বস্তিতে পড়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। দলের এক নেতা বলেন, “আইন নিজের কাজ করছে। তদন্তের আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।”

এদিকে আহত বিজেপি প্রার্থীকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট-পরবর্তী সময়ে এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। এখন সকলের নজর তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − seven =