অবশেষে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বুধবার ১৩,মে :: বালি পাচার ও আর্থিক দুর্নীতি মামলায় ইডির বড় পদক্ষেপ – দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ, একাধিক সমন এবং লুকআউট নোটিস জারির পর অবশেষে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস-কে গ্রেপ্তার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বুধবার ঝাড়খণ্ডের একটি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ইডি সূত্রের দাবি, বালি পাচার, জমি দখল এবং তথাকথিত “সোনা পাপ্পু” চক্রের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তে বহুদিন ধরেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম উঠে আসছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগেই তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

ইডির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তদন্তে এমন কিছু নথি ও ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ মিলেছে, যা থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে যে পাচারচক্রের আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর ক্ষেত্রে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বুধবার গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, জেরায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে।

বিশেষ করে বালি পাচার চক্রের অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল এবং কারা সেই চক্রকে প্রশাসনিক সুরক্ষা দিচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলি রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। অন্যদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, আইন আইনের পথেই চলবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল ইডি। এরপর থেকেই তিনি কার্যত “নজরবন্দি” তদন্তের আওতায় ছিলেন বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 12 =