আনন্দ মুখোপধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বৃহস্পতিবার ১৪,মে :: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আর সেই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু-র নাম।
শাসক শিবিরের অন্দরে তাঁর নাম নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে,
দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, পরিষদীয় কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জ্ঞান এবং তুলনামূলকভাবে মৃদুভাষী ভাবমূর্তির কারণেই তাঁকে স্পিকার পদের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।
বিশেষ করে নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিরোধী ও শাসক দলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ মুখকেই সামনে আনতে চাইছে সরকার।
উত্তরবঙ্গ থেকে স্পিকার নির্বাচন করার সম্ভাবনাকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাঁদের মতে, উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতেই কোচবিহারের প্রতিনিধিকে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের জন্য ভাবা হতে পারে।
এর ফলে উত্তরবঙ্গের সংগঠন ও প্রশাসনিক স্তরেও ইতিবাচক বার্তা যাবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি, তবুও নবান্ন এবং বিধানসভা মহলে রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম ঘিরে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে।
শাসক দলের এক নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এমন একজনকেই চাইছে যিনি অভিজ্ঞ, সংযত এবং সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলতে পারেন।” অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি অবশ্য স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে।
তাদের বক্তব্য, যিনিই স্পিকার হন না কেন, তাঁকে সংবিধান ও বিধানসভার মর্যাদা রক্ষা করেই কাজ করতে হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিধানসভার স্পিকার পদের জন্য আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। সেই ঘোষণার দিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

