নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বহরমপুর :: রবিবার ১৭,মে :: আসন্ন ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে কুরবানি সংক্রান্ত একাধিক সমস্যার অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের কাছে হস্তক্ষেপের দাবি জানালেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক স্তরে বিভ্রান্তি ও অতিরিক্ত কড়াকড়ির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, কুরবানি মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার। সেই আচার পালনের ক্ষেত্রে যাতে কোনওরকম প্রশাসনিক জটিলতা, হয়রানি বা অযথা বাধা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব।
তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন জেলা থেকে কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ এসেছে যে নির্দিষ্ট পশুর হাট, পরিবহণ ও অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়ে অস্পষ্ট নির্দেশের কারণে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, আইন মেনেই কুরবানি সম্পন্ন হওয়া উচিত। তবে প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিও সমান সম্মান দেখানো প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার যদি আগে থেকেই স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ায়, তাহলে অযথা উত্তেজনা বা বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
পাশাপাশি, কোনও উসকানিমূলক প্রচার বা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি যাতে পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে দিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের প্রশ্নে কংগ্রেস ফের সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো জেলাগুলিতে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যেই অধীর চৌধুরীর এই সরব হওয়া বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
যদিও রাজ্য সরকারের তরফে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রশাসনিক সূত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে, আইন মেনেই সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের ব্যবস্থা করা হবে এবং কোথাও যাতে অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে

