সজল দাশগুপ্ত :: সংবাদ প্রবাহ :: শিলিগুড়ি :: বুধবার ২০,মে :: পাহাড়ের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে ফের তীব্র চাপানউতোর শুরু হলো রাজ্য রাজনীতিতে।
এবার সরাসরি জিটিএ বা গোরখাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে তদন্তের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
শিলিগুড়িতে নেমেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন “পাহাড়ে বছরের পর বছর যে দুর্নীতি হয়েছে, তার সব হিসাব এবার খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে জিটিএ ফাইলও খোলা হবে।” শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে পাহাড়ের শাসকগোষ্ঠী ও জিটিএ-র প্রাক্তন কর্তাদের মধ্যে নতুন করে চাপ বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
সভা থেকে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, পাহাড়ের উন্নয়নের নামে কেন্দ্র ও রাজ্যের কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও সাধারণ মানুষের কাছে তার পূর্ণ সুফল পৌঁছায়নি।
রাস্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবায় এখনও ঘাটতি রয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “পাহাড়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। উন্নয়নের বদলে হয়েছে কমিশন আর কাটমানির রাজনীতি।”
একই সঙ্গে তিনি পাহাড়ের মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, “পাহাড়ের মানুষের অধিকার নিয়ে কেউ রাজনীতি করলে তা বরদাস্ত করা হবে না। স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তেই দুর্নীতির ফাইল খোলা প্রয়োজন।”
বিজেপির পাহাড় নেতৃত্বও এদিন শুভেন্দুর বক্তব্যকে সমর্থন করে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই জিটিএ-র বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস শুভেন্দুর মন্তব্যকে “রাজনৈতিক নাটক” বলে কটাক্ষ করেছে। তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেন, “ জিটিএ একটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত সংস্থা। ভিত্তিহীন অভিযোগ করে পাহাড়ের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে।”
পাহাড় রাজনীতির সঙ্গে জিটিএ প্রশ্ন বরাবরই স্পর্শকাতর। অতীতে গোরখাল্যান্ড আন্দোলন, প্রশাসনিক ক্ষমতা বণ্টন এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দুর “জিটিএ ফাইল খোলার” মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়কে ঘিরে বিজেপি আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারে। আর সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই জিটিএ ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে।

