বিধানসভায় স্পিকারের ঘরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, জল্পনায় ঋতব্রত-সন্দীপন

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: মঙ্গলবার ২৬,মে :: রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিলেন শাসকদলের দুই ‘বেসুরো’ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা।

মঙ্গলবার বিধানসভায় স্পিকারের ঘরে গিয়ে তাঁরা দীর্ঘ সময় বৈঠক করলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র সঙ্গে।

আর সেই বৈঠক ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক জল্পনা। গত কয়েক মাস ধরেই দলীয় অবস্থান নিয়ে একাধিক বিষয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানাতে দেখা গিয়েছিল ঋতব্রত ও সন্দীপনকে। কখনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কখনও স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা—

নানা ইস্যুতে তাঁদের মন্তব্য রাজনৈতিক অন্দরমহলে অস্বস্তি তৈরি করেছিল। ফলে এদিনের বৈঠককে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি দলীয় দূরত্ব মেটানোরই চেষ্টা চলছে? বিধানসভা সূত্রের খবর, বৈঠকটি প্রায় চল্লিশ মিনিট স্থায়ী হয়।

প্রথমে স্পিকারের সঙ্গে সাংগঠনিক ও বিধানসভা সংক্রান্ত আলোচনা হলেও পরে মুখ্যমন্ত্রী যোগ দেন। বৈঠকের পরে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি।

তবে শাসকদলের একাংশের দাবি, “এটি সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক বৈঠক। রাজনৈতিক কোনও তাৎপর্য খোঁজা ঠিক নয়।” যদিও বিরোধীদের বক্তব্য, “দীর্ঘদিনের অস্বস্তি চাপা দিতেই এই উদ্যোগ।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সামনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের আগে দল ভাঙনের কোনও ইঙ্গিত বাইরে যেতে দিতে চাইছে না সরকার। সেই কারণেই বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন এমন বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিন বিধানসভার করিডরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেশ কিছু সময় মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায়। অন্যদিকে সন্দীপন সাহাও বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে দ্রুত বেরিয়ে যান। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে।

রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এই বৈঠকের মাধ্যমে কি নতুন করে ‘সমঝোতার বার্তা’ দেওয়া হল? নাকি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার আগে নিজেদের জন্য নিরাপদ রাস্তা খুঁজছেন দুই বিধায়ক? আপাতত সেই উত্তর সময়ই দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × five =