সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: দক্ষিণ ২৪ পরগনা :: বুধবার ২৭,মে :: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল-কে ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেপ্তার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। বুধবার ভোররাতে পুরীর ব্লু লিলি হোটেল থেকে বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ককে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পরে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিক দুর্নীতি, জমি দখল এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিধায়কের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তের স্বার্থে গত ১৪ মে পৈলানে বিধায়কের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। কিন্তু পুলিশের অভিযানের খবর পেয়েই তিনি গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। তারপর থেকেই বিধায়কের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুরীর এক হোটেলে হানা দিয়ে তাঁকে আটক করা হয়
অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে খুব কম দেখা যাচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, সম্প্রতি তিনি রাজ্যের বাইরে চলে যান এবং পুরীর একটি সমুদ্রতীরবর্তী হোটেলে আত্মগোপন করে ছিলেন। বুধবার গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বিশেষ দল পুরীতে পৌঁছে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালায়।
দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বিধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কিছু ইলেকট্রনিক তথ্যও উদ্ধার হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। যদিও গ্রেপ্তারের পর দিলীপ মণ্ডল দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।
তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, “পুরো ঘটনাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আইন আইনের পথেই চলবে এবং আদালতেই সত্য সামনে আসবে।” অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেছে। বিরোধীদের দাবি, “দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল।
অবশেষে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।” যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্ব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। দলের একাংশের মতে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা উচিত নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তারি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃত্বের উপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে পুরী আদালতে তোলা হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর হতে পারে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাঁকে কলকাতায় আনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ তাঁকে নিয়ে আসার জন্য ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

