তোর ব্যাঙ্কে ৭ হাজার যাবে, ২ হাজার ব্যাক করিস’ — ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর টিমের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ গায়িকা ঋদ্ধির

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বৃহস্পতিবার ২৮,মে :: কলকাতার একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট নিয়ে রাজ্যের সাংস্কৃতিক মহলে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল গায়িকা ঋদ্ধি বন্দোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগকে ঘিরে।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের টিম শিল্পীদের পারিশ্রমিকের টাকা থেকে নিয়মিত “কাটমানি” চাইত।

তাঁর অভিযোগ, সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য শিল্পীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পাঠানো হলেও পরে সেই টাকার একটি অংশ ফেরত দিতে বলা হত।

ঋদ্ধির কথায়, “আমাকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল— ‘তোর ব্যাঙ্কে ৭ হাজার যাবে, ২ হাজার ব্যাক করিস।’ প্রথমে আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনও প্রশাসনিক খরচ আছে। পরে বুঝলাম এটা নিয়মিত ব্যাপার।”

গায়িকার দাবি, শুধুমাত্র তিনিই নন, আরও একাধিক নতুন ও মাঝারি স্তরের শিল্পী এই ধরনের চাপের মুখে পড়েছিলেন। অনেকেই সুযোগ হারানোর ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তাঁর কথায়, “অনুষ্ঠানে ডাক পেতে গেলে এই সিস্টেম মেনে চলতে হত। কেউ প্রশ্ন করলে পরের বার আর কাজ মিলত না।”

এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল, ঋদ্ধির বক্তব্য সেই অভিযোগকেই নতুন করে উসকে দিল।

যদিও ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ মহল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, শিল্পীদের পারিশ্রমিক সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম মেনেই দেওয়া হত এবং কোনও ব্যক্তিগত কাটমানির প্রশ্নই ওঠে না। এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বক্তব্য, “এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিল্পীদের সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে।”

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ঋদ্ধির সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। আবার একাংশের বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ক্ষমতা ও প্রভাবের রাজনীতি নতুন নয়।

তবে কোনও শিল্পী সরাসরি এভাবে প্রকাশ্যে মুখ খোলায় ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক বা আইনি স্তরে কোনও তদন্ত শুরু হয় কি না, নাকি তা শুধুই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 16 =