সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: গঙ্গাসাগর :: শুক্রবার ২৯,মে :: গঙ্গাসাগরে সরকারি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ত্রাণ সামগ্রী ব্যক্তিগত দোকানে মজুত করে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গঙ্গাসাগরের খাস রামকর চর এলাকা।
বিপর্যস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ কীভাবে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর বদলে ব্যক্তিগত দোকানে জমা হল, তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন। অভিযোগের তির সরাসরি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের দিকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রামকর চর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৬৫ নম্বর বুথের তৃণমূল কর্মী ভূপতি মাইতির দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ও এনজিওর ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ।
গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর স্থানীয়দের উদ্যোগে বিষয়টি সামনে আসে। পরে এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে ৪৩টি ত্রিপল, ১১ বস্তা মাছের খাবার, ১৩ বস্তা চুন এবং ২ বস্তা মিস। স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু সামগ্রীর গায়ে সরকারি দফতর এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম ও সিলমোহর স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে। যার জেরে এলাকায় ক্ষোভ আরও বাড়তে শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য পাঠানো ত্রাণ সামগ্রী কীভাবে একটি ব্যক্তিগত দোকানে গিয়ে জমা হলো?
বহু মানুষের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে বণ্টন না করে এই সামগ্রী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাফাই দিয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী ভূপতি মাইতি। তাঁর দাবি, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী তাঁর ব্যক্তিগত নয়। তিনি জানিয়েছেন, ভোটের আগে স্থানীয় তৃণমূলের বুথ সভাপতি নিজের দায়িত্বে ওই সামগ্রী তাঁর দোকানে রেখে গিয়েছিলেন।
ভূপতির বক্তব্য, “এই জিনিস আমার নয়। বুথ সভাপতি এগুলো রেখে গিয়েছিলেন, আমি শুধু দোকানে রাখতে দিয়েছিলাম।”
ঘটনার পর থেকেই গঙ্গাসাগরের খাস রামকর চর এলাকায় উত্তেজনা বজায় রয়েছে। এখন নজর প্রশাসনিক তদন্তের দিকে—ত্রাণ সামগ্রী সেখানে কীভাবে এল, কার নির্দেশে রাখা হয়েছিল এবং এর পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, সেই উত্তর খুঁজছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

